ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের প্রবাসীর মৃত্যু, লাশ ফেরাতে সরকারের সহযোগিতা চায় নিস্ব পরিবার
ভাগ্য বদলের আশায় মরুভূমির দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন চাঁদপুরের কাউছার হোসেন (৪০)। কিন্তু এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার প্রাণ, স্তব্ধ করে দিল একটি সাজানো সংসার। ওমানের রুস্তাক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বর্তমানে অর্থের অভাবে ওমানে পড়ে থাকা প্রিয়জনের মরদেহটি শেষবারের মতো দেখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও মানবিক সহায়তা কামনা করছে তার পরিবার।
নিহত কাউছার হোসেন চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া গ্রামের নূর মিয়া সওদাগর বাড়ির আমির হোসেনের মেজো ছেলে। ২০২৩ সালে অনেক স্বপ্ন নিয়ে তিনি ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ওমানে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন কাউছার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় রুস্তাক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বুধবার তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।
কাউছারের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে কচুয়ায় তার নিজ বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে তিনি ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মৃত্যুকালে তিনি বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং তিন কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ছোট একটি টিনের ঘরে বসবাস করা পরিবারটি এখন শোকে পাথর হয়ে গেছে। অবুঝ তিন শিশু সন্তান প্রতিদিন দরজায় বসে বাবার জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু তারা জানে না তাদের বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
নিহতের স্ত্রী জান্নাত আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "প্রবাসে আমার স্বামীর অকাল মৃত্যুতে আমাদের সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে। আমার তিনটি মেয়ে প্রতিদিন বাবার জন্য কাঁদে। আমার স্বামী আমাদের মুখের আহার জোগাতে প্রবাসে গিয়েছিল, এখন আমরা পুরোপুরি অসহায়। আমি শুধু চাই শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে। তার মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফন করতে পারি, সেজন্য আমি রাষ্ট্রের কাছে হাত জোড় করে সাহায্য চাইছি।"
নিহতের বাবা আমির হোসেন ও মা মাহফুজা বেগম জানান, অনেক কষ্ট করে ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন তারা। এখন সেই ঋণের বোঝা আর ছেলের মৃত্যুর শোক—সব মিলিয়ে তারা দিশেহারা। তারা বলেন, "আমরা গরিব মানুষ। ছেলের লাশ দেশে আনার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আমাদের ছেলেকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।"
স্থানীয়রা জানান, কাউছারের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। পরিবারের একমাত্র আয়ের মানুষটিকে হারিয়ে তারা এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসী এবং নিহতের স্বজনরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকারি খরচে মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
অবুঝ তিন কন্যার বাবার লাশ দেখার এই আকুতি এখন কচুয়ার আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলছে।
Comments