বিহারের গভর্নর আরিফ মোহাম্মদ খান হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় আসছেন
ভারত সরকার বিহারের রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খানকে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ শুধু বাংলাদেশে নয়, উপমহাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসেও বিরলভাবে উচ্চপ্রোফাইল নিযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরিফ মোহাম্মদ খান দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও বহু দফা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বে থাকার পাশাপাশি কংগ্রেস ছেড়ে পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে যোগদান করে রাজনীতিতে জ্ঞানগভীর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে অবস্থান করছেন।
কী কারণে তিনি পাঠানো হচ্ছে-সম্ভাব্য কারণসমূহ:
• কূটনৈতিক গুরুত্ব ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় উচ্চস্তরের কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রয়োজন। আরিফ খানের অভিজ্ঞতা ক্রস-সেক্টরাল কূটনীতি ও রাজনীতির বোঝাপড়া উভয়ের জন্য কাজে লাগবে।
• রাজনৈতিক সংকেত: বাংলাদেশে উচ্চপ্রোফাইল রাজনীতিক পাঠিয়ে সরকার দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুনভাবে তুলে ধরতে পারে, বিশেষত সীমান্ত, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে সরাসরি রাজনৈতিক লেভেলে কাজ করার সংকেত জানাতে।
• অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত কৌশল: ভারতে কিছু নীতিগত বা রাজনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক পোস্টে অভিজ্ঞ রাজনীতিক নিযুক্ত করা সরকারের অভ্যন্তরীণ পরামর্শক-নিয়োগ নীতির অংশও হতে পারে।
পদমর্যাদা ও প্রতিক্রিয়া: সংবাদসূত্র বলছে, তাকে কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদার অনুরুপ মর্যাদা বা সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হতে পারে, কারণ তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও অভিজ্ঞতা এটাই সুপারিশ করে। বাংলাদেশে পাঠানোর এ ধরনের উচ্চপ্রোফাইল নিযুক্তি প্রতিপক্ষ ও সমর্থক উভয়পক্ষেই নানা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। এ নিয়োগ বাংলাদেশি রাজনৈতিক মহল ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হবে, আর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিরোধী দলগুলোর কাছেও এটিকে নজরদারিতে রাখা হবে।
আরিফ মোহাম্মদ খান কিশোরবেলায় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, কংগ্রেস নেতৃত্বে দ্রুত উত্থান ঘটে এবং রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ তরুণ প্রতিমন্ত্রীরূপে তিনি ছিলেন। শাহ বানু তালাক মামলার বিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নীতির বিরোধিতা করায় মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস ত্যাগ করেন, যার ফলে ১৯৮৯ সালের কংগ্রেসের নির্বাচনী ভরাডুবিতে তাঁর দলত্যাগকে কিছুমাত্রাই গুরুত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সময়ে আবার মন্ত্রী হয়েছেন এবং শেষে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় রূপে থেকেছেন।
আরিফ মোহাম্মদ খানের হাইকমিশনার নিয়োগ কেবল কূটনৈতিক বদলি নয়, এটি রাজনৈতিক সংকেতও বটে। তার বিশাল রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও উত্থান-পতনের ইতিহাস তাকে উচ্চপ্রোফাইল কূটনীতিক করে তোলে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার পাশাপাশি দুদেশীয় সংবেদনশীলতা ও প্রতিক্রিয়া উভয়কেই জোরালোভাবে প্রভাবিত করবে।
Comments