এরফানের ফাঁসি স্থগিতের কথা জানিয়েছে ইরানের কারা কর্তৃপক্ষ
ইরানে এরফান সোলতানি নামে এক বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ পরিবারকে ফোন করে ফাঁসি স্থগিতের কথা জানিয়েছে।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে আটককৃতদের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী এরফানই মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম বিক্ষোভকারী। তিনি একটি পোশাকের দোকানে কাজ করতেন। ৮ জানুয়ারি তাঁকে তেহরানের উত্তর-পশ্চিমের শহর কারাজ থেকে আটক করা হয়।
বিদেশে অবস্থানরত সোমাইয়েহ (৪৫) নামে এরফানের এক আত্মীয় জানান, বুধবার তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিন ভোর পর্যন্ত স্বজনরা জেগে ছিলেন। কারণ ইরানে সাধারণত ফজরের আজানের সময় ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
কাঁদতে কাঁদতে সোমাইয়েহ বলেন, 'এরফানকে নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করতে পারছি না। অনিশ্চয়তা আমাকে শেষ করে দিচ্ছে। একজন সদয় মানুষের গলায় দড়ি পরিয়ে মারার মতো হৃদয় কার থাকতে পারে?'
মৃত্যুদণ্ডের খবরের পর সোলতানি ইরানি অধিকারকর্মীদের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সোলতানির মতো আরও অনেক ঘটনা অজানা রয়ে গেছে। তবে তাঁর ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, কত দ্রুততার সঙ্গে কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের সাজা দিচ্ছে।
নরওয়েভিত্তিক হেঙ্গাও মানবাধিকার সংস্থার মতে, সোলতানিকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন।
Comments