কে এই আতাউল্লাহ জুনুনী?
নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হয়েছেন রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ ওরফে আবু আম্মার জুনুনী। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ময়মনসিংহে আলাদা অভিযানে আরসার আরও ৯ সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
কে এই আতাউল্লাহ ওরফে আবু আম্মার জুনুনী? ইতিহাস বলে আতাউল্লাহর বাবা আরাকান থেকে পালিয়েছিল অনেক আগে। চলে গিয়েছিল সৌদি আরব। আতাউল্লাহ সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। পরে তিনি পাকিস্তানের করাচীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (ARSA) পরিচালনা করতেন তিনি করাচী থেকেই। এতে বোঝা যায়, আরসা পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা একটি সংগঠন।
আরসা সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করার আগে তারা ইয়াকিন নামে ক্ষুদ্র একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছিল। এর সদস্যরা পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপর আক্রমণ করেছে বেশ কয়েকটা। ২০১৬-১৭ সালের দিকে সেই সব আক্রমণের পরই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর হামলা করতে থাকে, আর ওরা এসে বাংলাদেশ আশ্রয় নেয়।
তাই রোহিঙ্গাদের বর্তমান দুর্দশার জন্যে আরসাকে দায়ী করা হয়। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মহিবুল্লা মাস্টারের হত্যার জন্যও আরসা দায়ী। মহিবুল্লা মাস্টার আরসার এ সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করতেন না,তিনি রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায় করার জন্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড,আন্তর্জাতিক চাপ এইসবের উপর অধিক ভরসা করতেন। তাছাড়া আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাঁদাবাজি করে, ইয়াবা ব্যবসা থেকেও টাকা নেয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্রশস্ত্র রাখা,অস্ত্রের জোরে পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলিতে প্রভাব বিস্তার্য করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে মহিবুল্লা মাস্টাকে। আরসার বিরুদ্ধে আরেকটা গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, হিন্দু রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা পরিচালনা করা। আরসার কারণেই মুসলিম রোহিঙ্গা আর হিন্দু রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৌহার্দ্য নেই।
আতাউল্লাহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তরুণদেরকে আরসায় অন্তর্ভুক্ত করছিল। আরসা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র সরবরাহ করে,সেইসব অস্ত্রের কিছু কিছু ক্যাম্পের বাইরেও বিক্রি হয় বলে জনশ্রুতি আছে।
এর মধ্যে আরেক ভিন্ন ঘটনাও ঘটেছে। কিছু কিছু খবরে বলা হচ্ছে আরসা মায়ানমারের সামরিক বাহিনী তাতমান্ডোর সাথে হাত মিলিয়েছে। গত বছর আরাকান আর্মি যখন আরাকানের বুচিডং এলাকাটি দখলে নেয়ার জন্যে আক্রমণ করেছে তখন আরসার লোকজন তাতমান্ডোর সঙ্গে মিলে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। মায়ানমারের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা আছে। সেই মামলায় বর্ণিত অভিযোগে রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্যে মূলত তাতমান্ডোকেই দায়ী করা হয়েছে।
Comments