বিএনপির শেষ ৩ অধিবেশনে এক ঝাঁক আইন!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন বসছে ৯ নভেম্বর। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এ পর্যন্ত মোট তিনটি অধিবেশন সফলভাবে শেষ হয়েছে। এসব অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশগুলোকে নিয়মিত আইনে রূপান্তরসহ বেশ কিছু বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে।
৩টি অধিবেশনে পাস হওয়া প্রধান আইন ও বিলের বিবরণ
প্রথম অধিবেশন ও বিল
নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার ৯১টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়। এই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল ২০২৬ ও ব্যাংক রেজোলিউশন বিল-২০২৬।
দ্বিতীয় অধিবেশন ও বিল
দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস করা হয়। পাশাপাশি ১০টি সরকারি বিল পাস করা হয়। বিলগুলো হলো, অর্থ বিল, ২০২৬, নির্দিষ্টকরণ বিল ১, নির্দিষ্টকরণ বিল ২, সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) বিল ২০২৬, জুয়া প্রতিরোধ বিল ২০২৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬, সরকারি পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল ২০২৬, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ২০২৬, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২৬ ও সর্বশেষ ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ বিল ২০২৬ পাস হয়।
তৃতীয় অধিবেশন ও বিল
মাত্র ৯ কার্যদিবসের এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন অ্যাক্ট ২০২৬। যার মাধ্যমে র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠন করা হয়।
আইনগুলো কি সবগুলোই পাস হয়েছে?
প্রশ্নহলো সবগুলো আইনই কি পাস হয়েছে? হ্যাঁ, উত্থাপিত ও আলোচিত বিলগুলোর সিংহভাগই সংসদে পাস হয়েছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের মতো কিছু সংবেদনশীল আইন পাসের সময় বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও সংসদ বয়কটের ঘটনা হয়েছিলো।
গুরুত্ব ও সমালোচনা
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত আইনে পরিণত করায় দেশে কোনো আইনি শূন্যতা তৈরি হয়নি। এছাড়া বিতর্কিত বাহিনী 'র্যাব' বিলুপ্ত করে নতুন 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন' গঠন এবং গুম প্রতিরোধের উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে সমালোচনার দিকটিও কম নয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মতে, নতুন আইনগুলোর কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা কমে গিয়েছে।
Comments