মাচা পদ্ধতিতে শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি, তবে দরপতনের শঙ্কা
শীতের আমেজ এখনো পুরোপুরি জেঁকে বসেনি, অথচ দেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ের মাঠ জুড়ে এখন বেগুনি শিম ফুলের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠের পর মাঠ মাচা পদ্ধতিতে চাষ করা আগাম জাতের শিম উঁকি দিচ্ছে পাতার ফাঁকে ফাঁকে। পঞ্চগড়ের কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খেত থেকে থোকা থোকা কচি শিম তুলতে, বাছাই করতে আর বাজারজাত করতে। অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচ ও দ্রুত ফলন আসায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে দ্রুত দাম পড়ে যাওয়ার শঙ্কায়ও ভুগছেন তারা।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতার আড়ালে থোকায় থোকায় ঝুলছে কচি শিম। কৃষকেরা ক্ষেতেই শিম বাছাই করে বস্তাবন্দী করছেন। মৌসুমের একেবারে শুরুতে বাজারে আসায় কোনো কোনো চাষি প্রতি কেজি শিম ১২০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে পেরেছেন। তবে বাজারে আমদানি বাড়ার সাথে সাথে বর্তমান দর কিছুটা নিম্নমুখী।
জেলার বোদা উপজেলার সন্তুরাপুখুরী গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম ২৫ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। তিনি জানান, "বীজ, সার, কীটনাশক ও মাচা তৈরিতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত চার দফায় শিম তুলে বিক্রি করেছি। প্রথম দফায় ১২০ টাকা কেজি পেলেও সর্বশেষ দফায় ৮০ টাকা দরে শিম বিক্রি করতে হয়েছে। চার দফায় মোট ১৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি হয়েছে। খেতে এখনো প্রচুর শিম রয়েছে, বাজার দর এভাবে থাকলে ভালো লাভ থাকবে।"
একই এলাকার আরেক কৃষক মকলেছার রহমান এবার ৩৩ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। আগাম চাষের কারণে তিনিও শুরুতে ভালো দাম পেয়েছেন বলে জানান। তবে শিম চাষে লাভের পাশাপাশি ঝুঁকিও কম নয় বলে জানান স্থানীয় কৃষকেরা। অতিবৃষ্টি, অসময়ে আবহাওয়ার রূপবদল কিংবা অতিরিক্ত গরমে শিমের ফুল ঝরে যায় এবং শিকড় পচে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ফল ছিদ্রকারী পোকা ও জাব পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকদের বাড়তি বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে খেত থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌঁছাতে শিমের দামের বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে খেত থেকে পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে শিম কিনছেন কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। সেই শিম আড়তে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে সাধারণ ভোক্তাকে একই শিম কিনতে হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। ব্যবসায়ীদের দাবি— খেত থেকে শিম কেনার পর বাছাই প্রক্রিয়া, পরিবহন খরচ এবং শ্রমিকের মজুরি হিসাব করেই খুচরা বাজারের মূল্য নির্ধারিত হয়।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাচা পদ্ধতিতে পঞ্চগড়ে আগাম শিমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এই উৎপাদিত শিম জেলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে চলতি মৌসুমে শিম চাষিরা বড় অঙ্কের মুনাফা ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
Comments