যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে একদিনেই ধস, উধাও আড়াই লাখ কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার জেরে বিশ্ব পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার থেকে একদিনেই প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার বাজারমূলধন উধাও হয়ে গেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) লেনদেন শুরুর পর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এশিয়ায়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার কেওএসপিআই সূচক প্রায় ৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় দেশটির স্টক এক্সচেঞ্জে ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন স্থগিত রাখতে হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি খাতের প্রধান সূচক নাসডাক ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ পতন দেখে। গত ৬ অক্টোবর সূচকটি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এটি ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেল। পাশাপাশি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাও জোনস সূচকও বড় পতনের মুখে পড়ে। এর আগের দিন বুধবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডাও জোনস সূচক ১ হাজার ৫৬৯ পয়েন্ট বাড়লেও বৃহস্পতিবার উল্টো ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্ট কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দরপতনের মূল কারণ টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসের জয়। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা বিপুল পরিমাণ তথ্যকেন্দ্র (ডেটা সেন্টার) নির্মাণ করছে। তবে নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসে সাময়িকভাবে ডেটা সেন্টার নির্মাণ বন্ধ রাখা এবং করছাড় প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে এই খাতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর ফলে চিপ নির্মাতা ও তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ার ব্যাপক হারে বিক্রি শুরু হয়। শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং চিপ নির্মাতাদের একটি সূচক সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পতন দেখে। এছাড়া ইলন মাস্কের টেসলার শেয়ার ১১ শতাংশ এবং স্পেসএক্সের শেয়ার ৯ শতাংশ দর হারিয়েছে। নাসডাক-১০০ সূচকও ২০২০ সালের মার্চের করোনা মহামারির পর একদিনে সবচেয়ে বড় (৬.৩৬ শতাংশ) পতনের মুখোমুখি হয়েছে।
Comments