আলোচনা এগোলেও ইরান–যুক্তরাষ্ট্রে শর্ত নিয়ে মতবিরোধ
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় পাকিস্তান সফর করলেন ইরানের প্রতিনিধিরা। গত শনিবার এক দিনের সফর শেষে তারা গিয়েছিলেন ওমানে। সফরসূচি ভেঙে সেখান থেকে আবার ইসলামাবাদে ফিরেছেন। আজ সোমবার পাকিস্তান থেকে তিনি মস্কো সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। তবে ইসলামাবাদে ফিরলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রকাশ্য কোনো ইঙ্গিত নেই।
গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের মাসকাট থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছেন। পূর্বঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, ওমানের পর তাঁর রাশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, মাসকাট থেকে প্রতিনিধি দলের একটি অংশ তেহরানে ফিরে গেছে। শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তারা 'যুদ্ধ শেষ করা' বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ করবেন। এরপর রোববার রাতেই আরাঘচির সঙ্গে ইসলামাবাদে যোগ দেবেন।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, আরাঘচির ইসলামাবাদে ফেরা একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। অর্থাৎ, এটিকে আলোচনা ভেঙে পড়ার লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা। আলজাজিরা জানিয়েছে, ওমানে আরাঘচি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। সেই আলোচনার ফলাফল হিসেবে তিনি আবার ইসলামাবাদে ফিরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফা পাকিস্তান সফরের অংশ হিসেবে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির বৈঠকের সম্ভাবনা আছে। ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা এটিকে আশাব্যঞ্জক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, এই সফর আলোচনাকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। তবে আপাতত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা মুখোমুখি আলোচনার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে। প্রথম দফার বৈঠকের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফা সংলাপের আশায় সেগুলো এতদিন ইসলামাবাদে ছিল। কিন্তু সেগুলো সরিয়ে ফেলাটা ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিগগিরই কোনো মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাচ্ছে না।
স্বার্থ, শর্তের দ্বন্দ্ব
দুই দেশের মধ্যে বিবাদের মূলে থাকা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো পক্ষই ছাড় দেওয়ার লক্ষণ দেখায়নি। এর মধ্যে নতুন করে যুক্ত হওয়া হরমুজ প্রণালি ঘিরেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একটি মন্তব্য এখনও হরমুজ ঘিরে আলোচনার অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখেছে। তিনি বলেছেন, 'বন্দরগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তেহরান কোনো আলোচনায় বসবে না।'
অন্যদিকে, প্রতিনিধিরা নতুন করে ইসলামাবাদে গেলেও সেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছে তাসনিম এজেন্সি। গতকাল রাতে তারা লেখে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আরাঘচির প্রধান এজেন্ডা হলো পাকিস্তানের কাছে যুদ্ধ শেষ করার শর্তগুলো তুলে ধরা।
প্রথম দফার সংলাপের আগে আলোচনার শর্তে ইরানের পক্ষ থেকে লেবাননকে যুক্ত করা হয়েছিল। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করেছে। সাতটি এলাকা খালি করার পর হুমকির পর গতকাল কয়েকটি স্থানে বিমান হামলা চালায় তেল আবিব।
Comments