সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের পর উত্তপ্ত চট্টগ্রামের রাজনীতি
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে 'ছাত্র' শব্দ মুছে 'গুপ্ত' লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বন্দরনগরীর রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। এই সংঘাতের রেশ ধরে চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও দুই সংগঠনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সহিংসতা এড়াতে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে:
কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পরীক্ষাগুলো যথানিয়মে চলছে। নিউ মার্কেট, সিটি কলেজ মোড়, চকবাজার এবং চট্টগ্রাম কলেজসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে গোয়েন্দা বিভাগ।
গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল কর্মী দেয়ালের একটি গ্রাফিতি থেকে 'ছাত্র' শব্দ মুছে 'গুপ্ত' লিখে দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বিকেলে নিউ মার্কেট মোড়ে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছাত্রশিবির তাদের ১৫ জন আহত হওয়ার দাবি করেছে। এর মধ্যে আশরাফ হোসেন নামে এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে দেখতে পার্কভিউ হাসপাতালে ছুটে যান ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে সামি মো. আলাউদ্দিনসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংঘর্ষের রেশ ধরে মঙ্গলবার রাতে নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় জামায়াতপন্থী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। আজ দুপুরে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, ছাত্রদল আজ দুপুরে রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সেখানে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল সক্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ ও 'ছাত্ররাজনীতি মুক্ত' ঘোষণার আদর্শিক দ্বন্দ্ব থেকেই এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার সৃষ্টি।
কোতোয়ালী থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা দায়ের করেনি।
Comments