ট্রাম্প চান ভেনেজুয়েলার ৫ কোটি ব্যারেল তেল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তিন থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ তথ্য জানালেন। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে। পাশাপাশি ট্যাঙ্কার ও মজুত থাকা ভেনেজুয়েলার ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে বিক্রি করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরিশোধিত তেল গতকাল প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারেরও নিচে নেমেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৫৬ দশমিক ৪৪ ডলার হয়েছে। ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ চীন। যুক্তরাষ্ট্র এ তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় চীনে তেল রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে। বেইজিং কারাকাসের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ নেয়। তারা উচ্চ মূল্যে তেল কিনলে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়বে।
গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভেনেজুয়েলা 'তার প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর পূর্ণ এবং স্থায়ী সার্বভৌমত্ব উপভোগ করে'। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেল হস্তান্তরের দাবি 'আন্তর্জাতিক আইন, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও দেশটির জনগণের অধিকারের লঙ্ঘন'।
এর আগে সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, '(তেলের) এ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি নিয়ন্ত্রণ করব, যাতে এটি ভেনেজুয়েলা ও মার্কিন জনগণের উপকারে আসে। এ তেল স্টোরেজ জাহাজে বহন করে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের আনলোডিং ডকে আনা হবে।'
ট্রাম্প জানান, তিনি চান ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে 'পূর্ণ প্রবেশাধিকার' নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছেন মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।
গত শুক্রবার গভীর রাতে কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসসহ তুলে নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেলটা ফোর্স। এএফপি জানায়, অভিযানে কিউবার সেনাসহ অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে তাদের বিচার চলছে।
কারাকাসে ব্যাপক বিক্ষোভ
মাদুরোকে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। আলজাজিরা জানায়, মাদুরোর মুক্তি দাবিতে এ বিক্ষোভের পর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তব্য দেন তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাইসদাদো কালিবো। বিক্ষোভের আয়োজন করেন ভেনেজুয়েলার নারীরা। মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। পরে দেশটির নারী সেনারা পৃথক আরেকটি বিক্ষোভ করেন।
কারাকাস ছাড়াও মাদুরোর মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভ হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল, পেরুর রাজধানী লিমা, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন শহরে। এ সময় তারা ট্রাম্পবিরোধী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনসহ নানা স্লোগান দেন। এ অবস্থায় অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসে (ওএএস) ব্রাজিলের প্রতিনিধি ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে বর্ণনা করেছেন। সংবাদ সংস্থা এজেন্সিয়া ব্রাসিল জানায়, ব্রাজিল বলেছে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে হামলা ও এর প্রেসিডেন্টকে তুলে নেওয়ার ঘটনা 'অগ্রহণযোগ্যতার রেখা' অতিক্রম করেছে।
ভেনেজুয়েলায় সশস্ত্র গ্রুপের উত্থানের শঙ্কা
দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, লাতিন দেশ ভেনেজুয়েলা মাদুরোকে তুলে আনার কারণে হঠাৎ করে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দিয়ে পূরণের চেষ্টা চলছে। দেশটির পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল। তবে দেশটির অভ্যন্তরে বড় ফাটল রয়েছে। ডেলসি দেশটির মাত্র একটি গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আরও কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। মাদুরোর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ডেলসি ও তাঁর ভাই জর্জ রদ্রিগেজ বেসামরিক লোকজনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
অন্যদিকে, মাদুরো সরকারেরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাইসদাদো কালিবো, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রিনো লোপেজ সশস্ত্র বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পরিস্থিতি একটু নড়বড়ে হলে বড় ধরনের গৃহদাহের শঙ্কা রয়েছে।
উত্তর আটলান্টিক থেকে রাশিয়ার ট্যাঙ্কার জব্দ
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার বিসিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আটলান্টিকে ভেনেজুয়েলার তেল বহনকারী রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। ট্যাঙ্কারটি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এ ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় কমান্ড বলেছে, মার্কিন বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গতকাল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য এমভি বেলা-১ জব্দের ঘোষণা দিয়েছে। এক্স পোস্টে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, 'ইউএসসিজিসি মুনরো এ ট্যাঙ্কারটি ট্র্যাকের পর মার্কিন ফেডারেল আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে জাহাজটি উত্তর আটলান্টিকে জব্দ করা হয়। ওই ট্যাঙ্কারটির ওপর বেশ কয়েকটি সামরিক বিমানকে উড়তে দেখা যায়।
Comments