বগুড়ার শেরপুরে ১৮ দিনে একই সড়কে ৫ ছিনতাই-চুরি

বগুড়ার শেরপুর-ধুনট সড়কে গত ১৮ দিনের ব্যবধানে পরপর পাঁচটি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে থাকা সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা থানা পুলিশের দিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির হওয়ার সম্ভাবনার তীর ছুঁড়ছেন।
ঢাকা বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর ধুনট আঞ্চলিক সড়ক। এ সড়ক দিয়েই শত শত বাস ট্রাক, সিএনজি অটো রিক্সা ধুনট, কাজিপুর ও শেরপুর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের অনবরত যাতায়াত করতে গভীর রাত পর্যন্ত। কিন্তু এই সড়কে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় বেড়ে যাচ্ছে ছিনতাই সহ নানা অপকর্মকান্ড।
জানা গেছে, এ সড়কে গত ১২ আগস্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে শালফা কলেজপাড়া এলাকায় প্রথম ঘটে। বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রূপম ব্যবসায়ীক কাজ শেষ করে বথুয়াবাড়ী থেকে শেরপুর যাচ্ছিল। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে ৫ জন ছিনতাইকারী এসে তার পথরোধ করে ৮ হাজার টাকা, একটি অপ্পো এন্ড্রোয়েড ফোন ও একটি আইফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এরপর গত ১৯ আগস্ট মঙ্গলবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে শেরপুর-ধুনট সড়কের হুসনাবাদ এলাকায়। সেদিন খানপুর ইউনিয়নের শালফা গ্রামের আবু তাহের মীরের ছেলে নাসিম মীর তার স্ত্রীকে বগুড়ায় অপারেশন করিয়ে বাড়িতে ফিরছিল। এ সময় ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল যোগে এসে তার অটোরিক্সা থামিয়ে তার কাছ থেকে ১৯ হাজার ৮০০ টাকা, একটি এন্ড্রোয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায়। একইদিন রাতে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের মো. গোলাইয়ের ছেলে মাসুদ বাড়ি যাওয়ার সময় বোয়ালকান্দি স্থানে ছিনতাইকারীর কবলে পরে। তবে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে সে সেখান থেকে মোটরসাইকেল জোরে চালিয়ে বেচে যান।
২২ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে শেরপুর-ধুনট সড়কের শুবলি এলাকায় জমি দেখতে মোটরসাইকেল সড়কের পাশে রেখে যান ভুক্তভোগী ওই গ্রামের শফি খা ড্রাইভারের ছেলে সেলিম খা। সে সময় সুযোগ বুঝে তিন-চারজন দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।
সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট শনিবার রাতে শালফা বাজারে মো. উপেনের চা ষ্টলের বেড়া কেটে ভিতরে প্রবেশ করে ২ হাজার ১০০ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।
এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রূপম বলেন, আমি ব্যবসায়িক কাজ শেষ করে গভীর রাতে শেরপুরের বাসায় ফিরছিলাম। সড়কের শালফা কলেজপাড়া এলাকায় পৌছালে জিক্সার সহ দুটি মোটরসাইকেলে ৫ জন ব্যাক্তি এসে আমাকে ঘিরে ধরে টাকা আর মোবাইল কেড়ে নেয়। বিষয়টি সত্যিই ভয়ের। আমি যতটুকু জানি এই সড়কে পুলিশ টহল থাকে। তাহলে এতোগুলো ঘটনা পরপর ঘটলো অথচ পুলিশ কিছুই জানতে পারলোনা। বিষয়টি মেনে নেয়ার মত নয়।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়কে ছিনতাই এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাতে তো বটেই, দিনের বেলাতেও মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। দ্রুত পুলিশি টহল জোরদার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট শেরপুর থানা থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম মঈনুদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
Comments