আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, পরিদর্শন করবেন মোংলা বন্দর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন। সফরে তিনি সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট এলাকা, মোংলা বন্দর এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করবেন। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারে করে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও আশপাশের সুন্দরবন এলাকা ঘুরে দেখবেন।
এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের কথা রয়েছে তাঁর। সেখান থেকে সড়কপথে লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ডরুমে যাবেন তিনি। সেখানে মধ্যাহ্নবিরতির পর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিকেলে মোংলা বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সফরের সব কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। বিকেল ৫টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে থাকবেন। তাঁর সফর ঘিরে খুলনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
অসহায় আঁখির পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা
অভাবের কারণে অনাগত সন্তান বিক্রির কথা ভাবতে বাধ্য হওয়া আঁখি নামের এক নারীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি গণমাধ্যমে 'গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চান আঁখি' শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন তাঁর নজরে আসে। এরপরই পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিনই প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পরিস্থিতি জানার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে এক ঘণ্টার মধ্যে আঁখি ও তাঁর পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁদের আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়।
গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিবারটিকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আঁখির সন্তান প্রসবের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন এবং পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আঁখির স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির চিকিৎসা এবং সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে পরিবারটি। সেই ঋণ পরিশোধের চাপ ও চরম আর্থিক সংকটের কারণে অনাগত সন্তানকে বিক্রি করার কথা ভাবতে বাধ্য হন আঁখি।
পরিবারটির এই দুরবস্থার খবর প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসার ব্যয় বহন এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
Comments