এক কলস পানির জন্য দীর্ঘ লড়াই, জলবায়ু পরিবর্তনে বিপন্ন উপকূলের নারীরা
সম্প্রতি পাহাড়ি জনপদসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিষয়টি উপলব্দি করলাম, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের ওপর। এমনিতে বাংলাদেশের এসব অঞ্চলের নারীরা নানা বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন। সেটি ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবনের ক্ষেত্রেও। আর দৈনন্দিন কাজের ভোগান্তির প্রভাবটা বেশি পড়ে তাদের ওপর। এটিকে এক কথায় আমরা বলতে পারি বহুমাত্রিক সংকট।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়া, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার বিস্তারে নিরাপদ পানির উৎস সংকুচিত হচ্ছে। ফলে পরিবারের জন্য সুপেয় পানি সংগ্রহ, রান্না, পরিচ্ছন্নতা ও সন্তানদের দেখাশোনার বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে নারীদের। একই সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।
বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকায় এই সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। জাতিসংঘের বাংলাদেশ কার্যালয়ে ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ উপকূলীয় এলাকায় অনেক নারীকে প্রতিদিন দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পানির সন্ধানে তাঁদের দিনে দুই থেকে তিনবার ২–৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে দিনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় হতে পারে।
এই বাড়তি শ্রম শুধু নারীদের দৈনন্দিন জীবনকেই কঠিন করছে না; শিক্ষা, আয়মূলক কাজ, বিশ্রাম এবং পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়ার সময়ও কমিয়ে দিচ্ছে।
পানির জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম, হয়রানিরও ভয়
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের লক্ষ্মী রানী বৈদ্যর অভিজ্ঞতা উপকূলীয় নারীদের এই সংকটের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। ইউএনডিপির প্রকাশিত প্রতিবেদনে পানির জন্য সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "বাড়ির বাইরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই চ্যালেঞ্জ শুরু হয়। নারী হিসেবে এসব সমস্যার কথা বলতে গেলেও কখনো মনে হয়, একই কথা বারবার বলে কী লাভ।"
ইউএনডিপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পানি সংগ্রহের পথে নারীরা উত্যক্ত করা, অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য এবং সম্মতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণের মতো হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
পানির জন্য দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হলে সন্তান ও গবাদিপশুর দেখাশোনাও ব্যাহত হয়। আবার পানি সংগ্রহে দেরি হলে সামাজিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অনেক নারীকে। ফলে নিরাপদ পানির সংকট তাঁদের জন্য শুধু শারীরিক শ্রমের বিষয় নয়; এটি সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
অসুস্থ শরীরেও থামে না পানি সংগ্রহ
উপকূলীয় নারীদের এই সংকটের আরেকটি দিক উঠে এসেছে দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের চকবাড়া গ্রামের মমতাজ বেগমের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, পানি সংগ্রহের শারীরিক কষ্টের মধ্যেও দায়িত্ব থেকে বিরতি নেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রতিবেদনে মমতাজ বেগমের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, অসুস্থ থাকার পরও তাঁকে পরিবারের জন্য পানি সংগ্রহ করতে হয়। দীর্ঘ পথ পানি বহন করার পর তাঁর শরীর ও পায়ে ব্যথা শুরু হয়। এমনকি মাসিকের সময়ও পানি সংগ্রহের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না তিনি।
এ ধরনের অভিজ্ঞতা দেখায়, নিরাপদ পানির অভাব কীভাবে নারীদের ওপর অবৈতনিক শ্রমের বোঝা বাড়িয়ে দেয়। পানি সংগ্রহে কয়েক ঘণ্টা ব্যয় হলে রান্না, কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা কিংবা সন্তানদের পড়াশোনায় সহায়তা করার সময়ও কমে আসে।
লবণাক্ত পানিতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
নিরাপদ পানির অভাবে অনেক নারীকে দৈনন্দিন কাজে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয়। পানীয় জল, রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার কাজে নিরাপদ পানির ঘাটতি তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২০২৫ সালের ১ অক্টোবর BMC Women's Health সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ২৩৪টি পরিবারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটিতে পানির লবণাক্ততার সংস্পর্শ এবং প্রজননস্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক অনুসন্ধান করা হয়েছে।
এ ছাড়া Frontiers in Public Health-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় শ্যামনগরের পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়নের ২৫ জন নারী ও পাঁচজন বিবাহিত পুরুষের সাক্ষাৎকার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে নিরাপদ পানির অভাব, ত্বকের সমস্যা, স্ত্রীরোগ ও প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং গরমের সময় পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উঠে এসেছে।
গবেষণাগুলো স্থানীয় পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো থেকে বাংলাদেশের সব উপকূলীয় নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকির হার নির্ধারণ করা যায় না। লবণাক্ততার পাশাপাশি পুষ্টি, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও নিরাপদ পানির বিকল্প উৎসের অভাবও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
গর্ভবতী নারীদের জন্য বাড়তি উদ্বেগ
উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ। দ্য গার্ডিয়ান-এর ২০২৪ সালের ২ এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে খুলনার দাকোপ এলাকার নারীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পানীয় জলের লবণাক্ততা ও উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিবেদনে গবেষণার বরাতে গর্ভাবস্থায় প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানির অবকাঠামো ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও অনেক পরিবার বিকল্প পানির সংকটে থাকে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভবতী নারীদের জন্য নিরাপদ পানি, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিশ্চিত করা জরুরি। লবণাক্ততার সঙ্গে স্বাস্থ্যসমস্যার সম্পর্ক থাকলেও ব্যক্তিভেদে ঝুঁকি আলাদা হতে পারে।
মাসিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতায় সংকট
নিরাপদ পানির অভাব কিশোরী ও নারীদের মাসিককালীন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও কঠিন করে তোলে। পর্যাপ্ত পানি, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার এবং স্যানিটারি উপকরণের সীমিত প্রাপ্যতা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও জটিল করে।
ইউএনডিপির উপকূলীয় নারীদের নিয়ে করা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দূর থেকে পানি সংগ্রহের পাশাপাশি মাসিকের সময় প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কিশোরী ও নারীদের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং সাশ্রয়ী মাসিক স্বাস্থ্য উপকরণ প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে নারীর অদৃশ্য শ্রম
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিকাজ, মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন ও অন্যান্য জীবিকার ক্ষতি হলে পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কেউ কাজের সন্ধানে অন্য এলাকায় চলে গেলে বাড়িতে থাকা নারীদের ওপর সন্তান, প্রবীণ সদস্য, গৃহস্থালি এবং জীবিকা পরিচালনার দায়িত্ব আরও বাড়তে পারে।
পানির জন্য প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ব্যয় হলে নারীদের আয়মূলক কাজ, প্রশিক্ষণ কিংবা শিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়। অথচ এই শ্রমের বড় অংশ অর্থনৈতিক হিসাবের বাইরে থেকে যায়।
এ কারণে উপকূলীয় নারীদের জলবায়ুজনিত দুর্ভোগকে শুধু পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণের প্রশ্ন।
সমাধানের উদ্যোগ: নিরাপদ পানি ও নারীর জীবিকা
উপকূলীয় নারীদের দুর্ভোগ কমাতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউএনডিপির ২৩ জুন ২০২৬-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাদের জেন্ডার-রেসপনসিভ কোস্টাল অ্যাডাপটেশন প্রকল্প ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৭ লাখ ১৯ হাজার ২২৯ জনকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। প্রকল্পের আওতায় ১৫ হাজার ৭০০টির বেশি জলবায়ু-সহনশীল পানির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে এবং ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯৭ জনের বছরজুড়ে নিরাপদ পানির সুযোগ তৈরির কথা জানানো হয়েছে।
একই প্রকল্পে ২৪ হাজার ৭২৪টি পরিবারকে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায় যুক্ত হতে সহায়তা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএনডিপি। লবণসহিষ্ণু কৃষি, কাঁকড়া চাষ, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষ এবং বাড়ির আঙিনায় বাগান করার মতো উদ্যোগ নারীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এসব সুবিধা কতটা টেকসই থাকবে, স্থানীয় জনগোষ্ঠী কীভাবে ব্যবস্থাপনাটি চালাবে এবং অন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্যোগগুলো কতটা সম্প্রসারিত হবে—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।
জলবায়ু নীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের দাবি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ২০২৬ সালের ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক কমিউনিটি সংলাপে উপকূলীয় ও আদিবাসী নারীরা জলবায়ু নীতিনির্ধারণে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। ঢাকা ট্রিবিউন-এর ৬ জুনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংলাপে নারী বনজীবী, মৎস্যজীবী, কৃষক, বাঘবিধবা এবং মুন্ডা সম্প্রদায়ের নারীরা অংশ নেন। তাঁরা জলবায়ুজনিত দুর্যোগে জীবনযাত্রার অবনতি এবং পরিবেশ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় নারীদের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
এই দাবি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পানি ব্যবস্থাপনা, বাঁধ নির্মাণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় নারীদের অভিজ্ঞতা সরাসরি কাজে লাগানো সম্ভব। যাঁরা প্রতিদিন পানির সংকট মোকাবিলা করছেন, তাঁদের মতামত ছাড়া কার্যকর ও টেকসই সমাধান তৈরি করা কঠিন।
কী করা প্রয়োজন
উপকূলীয় নারীদের দুর্ভোগ কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি:
নিরাপদ পানির ব্যবস্থা: বাড়ির কাছাকাছি পানি সংগ্রহের স্থান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা বাড়ানো।
স্বাস্থ্যসেবা: মাতৃস্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য, মাসিককালীন পরিচ্ছন্নতা ও তাপজনিত অসুস্থতা মোকাবিলায় সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করা।
জীবিকার সুযোগ: জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।
নিরাপত্তা: পানি সংগ্রহের পথে হয়রানি প্রতিরোধ, নিরাপদ চলাচল এবং দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্রে নারীবান্ধব ব্যবস্থা রাখা।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ: স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় নারীদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন: প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও পানির অবকাঠামো সচল রাখা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানো।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উপকূলীয় বাংলাদেশের সবার জীবনেই পড়ছে। তবে সুপেয় পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি, বাড়তি গৃহস্থালি শ্রম এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে নারীদের ভোগান্তি অনেক ক্ষেত্রে আলাদা মাত্রা পাচ্ছে।
লক্ষ্মী রানী বৈদ্যর অভিজ্ঞতা থেকে মমতাজ বেগমের অসুস্থ শরীরেও পানি সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা—সবই দেখায়, এই সংকট শুধু পরিবেশের নয়; এটি মর্যাদা, স্বাস্থ্য, জীবিকা এবং সমান সুযোগের প্রশ্ন।
নিরাপদ পানি, নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা এবং নীতিনির্ধারণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এই দুর্ভোগ কমানো সম্ভব। উপকূলীয় নারীদের প্রয়োজনকে জলবায়ু অভিযোজনের কেন্দ্রে রাখা এখন সময়ের দাবি।
Comments