লোকসান কাটাতে ১৮ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চাইল বিপিসি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এই বিশাল লোকসান পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলায় জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়মিত সমন্বয় করে আসছিল সরকার। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। তবে দেশের বাজারে জনসাধারণের কথা চিন্তা করে সে সময় এবং এপ্রিলের শুরুতে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ১৯ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বাড়ায় সরকার।
গত ২৩ জুলাই বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান স্বাক্ষরিত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে বলা হয়, গত মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ৭২টি পার্সেল জ্বালানি তেল আমদানির পর এই সাড়ে চার মাসেই বিপিসির লোকসান ছাড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। চড়া দামে তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে বিপিসির মারাত্মক আর্থিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে, স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে হলে প্রতিষ্ঠানটির হাতে সব সময় অন্তত দুই মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থাৎ ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন জমা রাখতে হয়। কিন্তু ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বর্তমানে নগদ অর্থের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকি না পেলে ব্যাংকগুলোতে সময়মতো ঋণপত্র (এলসি) খোলা বা আমদানির মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছে বিপিসি।
Comments