সরকারি সংস্থায় একসঙ্গে ১২ জনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে অসন্তোষ
বিভিন্ন সরকারি বোর্ড, অধিদপ্তর ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের একযোগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ গ্রেড-২ পদমর্যাদার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে এক বছরের জন্য এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পদোন্নতিপ্রত্যাশী নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে: মো. সামসুল আলম: নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব। মোহাম্মদ রাশেদুল হক: বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক)। মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল: বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক)। এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী: বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান (বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক)। আবদুল খালেক: বিএসইসির চেয়ারম্যান (বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক)। বেনজীর আহমেদ: বিসিকের চেয়ারম্যান (বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক)। কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু): জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের এমডি (বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক)। মামুন হাসান: বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান (যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি)। জাকির সিদ্দিকি: তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান (যুবদলের সাবেক সহসভাপতি)। কামরুজ্জামান দুলাল: জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব (যুবদলের সাবেক সহসভাপতি)। এছাড়া মো. সালাহউদ্দিন সরকার শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং শামসুজ্জামান (সুরুজ) চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এই নিয়ে প্রশাসনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। নিয়মিত পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ায় দীর্ঘকাল চাকরি করা কর্মকর্তাদের মনোবল ও পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অতীতে রাজনৈতিক নিয়োগের নজির থাকলেও একসঙ্গে ১২ জনের এমন নিয়োগ নজিরবিহীন।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আইনসম্মত হলেও এটিকে নিয়মে পরিণত না করে ব্যতিক্রম রাখা উচিত। প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ছাড়া দলীয় পরিচয়ে শীর্ষ পদে লোক নিয়োগ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং সুশাসন ব্যাহত হতে পারে।
সূত্র: সমকাল
Comments