যুক্তরাষ্ট্র এমন শিক্ষা পাবে যা কখনো ভুলবে না: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তেহরান এবং তার প্রতিরোধ ফ্রন্ট (অ্যাসিস্ট্যান্স রেজিস্ট্যান্স) মার্কিন বাহিনীর জন্য এমন এক শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কোনোদিন ভুলতে পারবে না। গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর এই কড়া হুঁশিয়ারি সম্বলিত লিখিত বিবৃতিটি পাঠ করা হয়।
বিবৃতিতে খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'মহাশয়তান' (যুক্তরাষ্ট্র) যেভাবে গত মাসের সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে, তা প্রমাণ করে যে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো 'আইনি মূল্য নেই'। জুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের ডিএনএ-র অংশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, "মার্কিন শত্রু এখন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ উসকে দিতে চাইছে। কিন্তু তারা এর মাধ্যমে আরও বড় অপমান ও চড়া মূল্য দেওয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতারণাপূর্ণ চরিত্র ও অবিশ্বস্ততার আসল চেহারা উন্মোচন করেছে।" উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশকে রক্ষায় নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি ইরানি জনগণকে সর্বোচ্চ 'সতর্ক ও সক্রিয়' থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত সপ্তাহে ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন নাটকীয়ভাবে জোরদার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের নির্দেশে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু, রেলপথ এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানাসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে তেহরান। বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে ইরান। ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জেরে কুয়েত সরকার দেশজুড়ে নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে জরুরি সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশে অবস্থানরত একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে তারা সফল হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যেকোনো মুহূর্তে লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রবেশপথ 'বাব আল-মান্দেব প্রণালি' সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে।
যদি হুতিরা এই নৌপথ অবরুদ্ধ করে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বন্ধ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর মার্কিন জনগণের অভ্যন্তরীণ চাপ তীব্র আকার ধারণ করবে।
Comments