সুখী-সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
সুখী-সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে দেশের সব স্তরের মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সংলগ্ন জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্য ও অধীর আগ্রহের সাথে তাদের প্রতিটি দাবি শোনেন।
উপ-প্রেস সচিব জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছি যেখানে কোনো জাতি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা কাউকে আলাদা মনে করি না।'
বৈঠকে ১৭টি জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের প্রধান দাবিগুলো উপস্থাপন করেন: ১. সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট 'ভূমি কমিশন' গঠন। ২. আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন। ৩. 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী' শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় প্রদান। ৪. আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি। ৫. একটি কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার স্থাপন। ৬. বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ করা। ৭. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান।
প্রধানমন্ত্রী এই দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে জানান, বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে যেগুলো দ্রুত সমাধানযোগ্য, সেগুলোর কাজ আগে শুরু করছে।
দেশের বিরাজমান সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের এখন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে গেছে। প্রতি বছর দেশ থেকে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার না হলে আজ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ দেশের আপামর জনসাধারণের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।'
তিনি আরও বলেন, 'দেশে এখনো এত সমস্যা বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। বিগত ১৭ বছরে এই সমস্যাগুলো সমাধান হওয়ার কথা ছিল। আগে শুধু উন্নয়নের গল্প শুনতাম, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো ভিত্তি ছিল না। ফলে সব চাপ এখন আমাদের সরকারের ওপরে এসেছে। এই সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক, আমরা সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি।'
বিগত সরকার দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে গেছে উল্লেখ করে তা পুনর্গঠনে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (৩১ শয্যা)। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমান সরকার এখন সেগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অপরদিকে, আগের সরকারের ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কোনো বাস্তব কার্যক্রম নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংয়ের মতো জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত কর হ্রাস করার কথাও জানান তিনি।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ এবং বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জীব দ্রং।
Comments