এডিবির পূর্বাভাস: চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫%, ভোগাবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি
টানা নানামুখী ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সেই পুনরুদ্ধারের গতি হবে বেশ ধীর। আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) 'এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক' (এডিও)-এর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ। যদিও এটি গেল অর্থবছরের সম্ভাব্য ৩.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা বেশি, তবুও তা বিগত বছরগুলোর গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি প্রবাহ, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, তীব্র জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশের কারণে গেল অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল।
তবে চলতি অর্থবছরে অর্থনীতি কিছুটা ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে। এর পেছনে কাজ করবে: মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসা। ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন সহজ করা ও সুশাসনের উন্নতি। কর প্রশাসনে দৃশ্যমান সংস্কার। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রবৃদ্ধির গতি খুব দ্রুত বাড়বে না। কারণ দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ঘাটতি এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
এডিবি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস আগের চেয়ে বাড়িয়েছে। গত এপ্রিলে এই অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, সর্বশেষ প্রতিবেদনে তা বাড়িয়ে ৮.৮ শতাংশ করা হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির প্রভাব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হারজনিত চাপ এবং খাদ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগবে।
এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, "কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে দ্রুত সংস্কার জরুরি।"
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা দেশের মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন শুল্ক বা বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর অর্থনৈতিক ধীরগতি, বৈদেশিক অর্থায়নের কঠোর পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
Comments