জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকারকে উদার হওয়ার পরামর্শ স্পিকারের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন জুড়েই উত্তাপ ছড়িয়েছে 'জুলাই সনদ'। এই ইস্যু নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের মধ্যে দৃশ্যমান মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে রাজপথের আন্দোলনের চেয়ে সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সাথে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে আরও উদার হওয়া এবং একটি শক্তিশালী মানবাধিকার আইন প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদের শুরু থেকেই জুলাই সনদ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী শিবিরের অবস্থান দুই মেরুতে। নির্বাচনে বিজয়ী বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা শপথের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' গঠনের শপথ নেন। তবে প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক ধারা বজায় রেখে সরকারি দল বিএনপি, তাদের সমমনা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই ধরনের শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। বিরোধী দল সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানালেও সরকার 'বিশেষ কমিটি' গঠন করে। এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল। তীব্র বিরোধিতার মুখেই সংসদে পাস হয় মানবাধিকার, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল। পাশাপাশি বাতিল করা হয় বহুল আলোচিত গুম অধ্যাদেশ।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মনে করেন, আগামী অধিবেশনও জুলাই ইস্যুতে উত্তপ্ত থাকবে। দুই দলই সনদের বাস্তবায়ন চায়, তবে উচ্চকক্ষ, মানবাধিকার ও বিচার বিভাগ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামলাতে তিনি উভয় পক্ষকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন,
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে আইনের মাধ্যমে ও সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে করতে হবে, যা কেবল জাতীয় সংসদেই সম্ভব। এই ব্যাপারে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বোঝাপড়া হওয়া জরুরি। জুলাই সনদের দাবিতে যতটুকু ছাড় দেওয়া সম্ভব, ক্ষমতাসীন দলের তা দেওয়া উচিত। বিরোধী দলকেও বুঝতে হবে যে, সংখ্যা গরিষ্ঠতার কারণে সরকার যাতে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে।
কোনো দলই চিরস্থায়ীভাবে সরকারি বা বিরোধী দল থাকে না। এখন যদি মানবাধিকার রক্ষায় সরকার উদার না হয়, তবে ভবিষ্যতে বিরোধী দলে গেলে তাদেরও এর মাসুল দিতে হতে পারে। তাই অতীতের চেয়ে শক্তিশালী ও যুগোপযোগী মানবাধিকার আইন করা উচিত।
জুলাই সনদ নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের এই দ্বন্দ্বের সুযোগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুর্নবাসন বা নতুন কোনো গভীর ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অভিজ্ঞ এই পার্লামেন্টারিয়ান।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশকে তছনছ করার জন্য যারা প্রতিদিনই ছক কষছে, তাদের অপচেষ্টা রুখতে সরকারি ও বিরোধী দলকে মাফিয়া প্রত্যাবর্তনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে।' জাতীয় স্বার্থে দুই দলের সমঝোতার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্পিকার।
Comments