আজ পাস হচ্ছে অর্থ বিল: কমছে করপোরেট কর, বসছে না খুচরা পর্যায়ের ভ্যাট
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে করপোরেট করের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় হচ্ছে সরকার। শর্ত সাপেক্ষে আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য এই কর আড়াই শতাংশ কমানো হতে পারে। এ ছাড়া, বিভিন্ন মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচায় অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবং ১৬ খাতের খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর প্রস্তাবিত সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে পুরোপুরি সরে আসছে সরকার। মূলত ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অংশীজনের আপত্তির মুখেই শেষ মুহূর্তে বাজেটে এসব বড় সংশোধনী আনা হচ্ছে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই চূড়ান্ত অর্থ বিল পাস হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে এই অর্থ বিলটি উত্থাপন করেছিলেন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ক্যাশলেস বা ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে করপোরেট করে এই ছাড় মিলবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার সাড়ে ২২ শতাংশ এবং পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ছাড়লে এই হার ২০ শতাংশ। এছাড়া সাধারণ কোম্পানির করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৪০ শতাংশ। তামাক কোম্পানির কর ৪৫ শতাংশ এবং মোবাইল অপারেটরদের করহার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। শর্ত সাপেক্ষে সাধারণ ও তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানির করহার এবার আড়াই শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, তবে বাকিদের করহার অপরিবর্তিত থাকবে।
পাশাপাশি, মুদি দোকানসহ ১৬টি খাতের খুচরা ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট কর বসানোর প্রস্তাব করা হলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র আপত্তি ওঠে। ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিয়ে চূড়ান্ত বাজেটে এই কর বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
Comments