পদ্মা সেতুর পথেই এগোচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা: পানিসম্পদমন্ত্রী
উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের বহু প্রতীক্ষিত 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, "পদ্মা সেতু প্রকল্প যেভাবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছিল, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও ঠিক একই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে।"
শুক্রবার (১৯ জুন, ২০২৬) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ, তিস্তা সেচ ক্যানেল ও চারালকাটা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বর্তমান সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি। এটি কেবল একটি অবকাঠামোগত মেগা প্রজেক্ট নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমের পানিসংকটের স্থায়ী সমাধানের একটি সমন্বিত উদ্যোগ।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতির চূড়ান্ত কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই দ্রুত একনেকের অনুমোদন নিয়ে মাঠপর্যায়ের মূল কাজ শুরু করা হবে। তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন:
"শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে এখানকার কৃষি ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আবার বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় নদী শাসন, ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ, টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও আধুনিক সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। প্রকল্প সম্পন্ন হতে ২ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে, তবে এটি হবে একটি টেকসই সমাধান।"
পরিদর্শনকালে উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদের কোনো বিদেশি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকেই ধাপে ধাপে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
একই সাথে তিস্তা নিয়ে সাম্প্রতিক আন্দোলনের সমালোচনা করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, "তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে এখন অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন মাঠ গরম বা আন্দোলনের কর্মসূচি দিলেও, অতীতে যখন তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও নদীভাঙন রোধে দীর্ঘ আন্দোলন চলেছিল, তখন তাঁদের পাশে দেখা যায়নি। এখন যখন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত, তখন অনেকেই সস্তা কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।"
সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনের সময় দুই মন্ত্রীর সাথে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই ঘোষণার ফলে তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।
Comments