৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
দেশের নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর। আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির 'লাইফলাইন' (০-৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত বর্ধিত মূল্যহার প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে এই দুই শ্রেণির গ্রাহককে আর বাড়তি বিল দিতে হবে না, তারা আগের দামেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। কমিশন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করে এই জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য আগের রেটই কার্যকর থাকছে। প্রতি ইউনিটের দাম আগের মতোই ৪ টাকা ৬৩ পয়সা বহাল থাকবে। (৩ জুনের ঘোষণায় এটি বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছিল)। প্রথম ধাপের গ্রাহকরা (০-৭৫ ইউনিট) প্রতি ইউনিটের দাম আগের মতোই ৫ টাকা ২৬ পয়সা বহাল থাকবে। (৩ জুনের ঘোষণায় এটি বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়েছিল)।
বিইআরসি স্পষ্ট করেছে যে, আগের ঘোষিত বর্ধিত মূল্যহার (৫.৩২ টাকা ও ৬.১৮ টাকা) এই দুই শ্রেণির জন্য আর কার্যকর হচ্ছে না। তবে অন্যান্য সব শ্রেণির উচ্চ ও মাঝারি ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ৩ জুন ঘোষিত নতুন (বর্ধিত) দামই বহাল থাকবে।
গত ৩ জুন বিইআরসি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করেছিল, যা ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি ব্যাপকভাবে সামনে আসে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে, দাম বৃদ্ধির মাত্র একদিনের মাথায় লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য পুরোনো দাম বহাল রাখার আবেদন জানায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বিতরণ কোম্পানিগুলোর এই যৌথ আবেদনের ওপর ভিত্তি করে কমিশন দ্রুততার সাথে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পূর্বের মূল্যহার বহাল রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়।
এই দুই শ্রেণির গ্রাহকের ক্ষেত্রে বর্ধিত দাম কার্যকর না করায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আয় কমবে। ফলে এই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে তা সমন্বয় করতে হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
Comments