কোরবানি নিয়ে অনিশ্চয়তায় খামারিদের চোখে জল
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে গরু ও মহিষ কোরবানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পশু জবাই সংক্রান্ত সরকারি বিধিনিষেধ ও ধর্মীয় নেতাদের আহ্বানের পর রাজ্যে গবাদি পশু কেনাবেচা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে খামারি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন নিয়মের কারণে কোরবানির প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রশাসনিক হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাজারে গরু কেনাবেচা কমে গেছে।
গত ১৩ মে জারি করা পশু জবাই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দেশনা অনুযায়ী, জবাইয়ের উপযুক্ত সনদ ছাড়া পশু জবাই করা যাবে না, প্রকাশ্যে জবাই নিষিদ্ধ থাকবে এবং প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া গবাদি পশু জবাই করা যাবে না।
এদিকে কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসমি বলেন, অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে নতুন নিয়ম কোরবানির বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলেছে। তিনি প্রতিটি এলাকায় কসাইখানা ও পশুচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা তোহা সিদ্দিকীও এ বছর গরু কোরবানি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন বিধিনিষেধে কোরবানির প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে, তাই বিতর্ক এড়াতে ছাগলসহ বিকল্প পশু কোরবানির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, এই বিধিনিষেধ ধর্মীয় রীতিনীতিতে হস্তক্ষেপের শামিল। তাদের দাবি, কোরবানি ইসলামী রীতির অংশ এবং এতে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করা উচিত নয়।
খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পশু বিক্রি না হওয়ায় তারা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পশুপালন খাত, হাটভিত্তিক ব্যবসা, কসাই কার্যক্রম এবং চামড়া শিল্পও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
Comments