ফরিদপুরে তরুণীকে পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টা, গ্রেফতার ৩
উন্নত কর্মসংস্থান ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক তরুণীকে ফরিদপুরের রথখোলা পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিন পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে এই চক্রের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১০(১), ১০(২), ১১(১) ও ১১(২) ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৭৮। শুক্রবার বিকেলে গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাড়ি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাসাহাট এলাকায়। তিনি ঢাকার ধামরাইয়ে মায়ের সাথে থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার সাথে মনির শেখ (৩০), আলম ফকির (২০) ও মুন্নি (২০) নামের তিনজনের পরিচয় হয়। অভিযুক্তরা ধামরাই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ভুক্তভোগী জানান, অভিযুক্তরা তাকে ভালো চাকরি এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এরপর গত ১৪ মে কৌশলে তাকে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে কিছুদিন আটকে রাখার পর গত ২১ মে সকালে তাকে রথখোলা পতিতালয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি টের পেয়ে ওই তরুণী ভেতরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে পাচারকারীরা তাকে জোর জবরদস্তি শুরু করে। একপর্যায়ে তরুণী চিৎকার করে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে সামনের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত তিনজনকে হাতেনাতে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং আটক তিনজনকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই মানবপাচার চক্রের সাথে তানিয়া ও দুখু নামে আরও দুজন জড়িত রয়েছে, যারা বর্তমানে পলাতক।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি পলাতকদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Comments