মন্ত্রিসভায় যেসব প্রস্তাবে মিলল অনুমোদন
গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার ৮ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নিরাপদ অভিবাসন সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩টি বড় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জাপান-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'ট্রান্সফার অব ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি' শীর্ষক চুক্তিটি অনুসমর্থনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের পথ আরও সুগম হলো।
আন্তর্জাতিক বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্সে (আইবিসিএ) যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে 'ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য এস্টাবলিশমেন্ট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ)' স্বাক্ষরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জোটের পরিচয়: ২০২৩ সালের এপ্রিলে গঠিত এই বৈশ্বিক জোটে বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ২৪টি দেশ রয়েছে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: বিশ্বের ৭টি প্রধান বৃহৎ বিড়াল প্রজাতি (বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষার চিতা, পিউমা, জাগুয়ার ও চিতা) সংরক্ষণ, এদের আবাসস্থল সুরক্ষা, অবৈধ শিকার ও পাচার রোধ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা।
বাংলাদেশের ভূমিকা: রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশ হিসেবে সুন্দরবনের ইকো-সিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও বাঘ সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিরাপদ অভিবাসনে 'জিসিএম-ন্যাপ' (২০২৬-২০৩০) অনুমোদন: বিশ্বজুড়ে নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘে 'গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)' গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ ১৬৪টি দেশ এর অন্তর্ভুক্ত।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উত্থাপনে জিসিএমের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খসড়া জিসিএম-ন্যাপ (২০২৬-২০৩০) অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ সব সময়ই নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং জিসিএম ধারণার অন্যতম প্রধান প্রবক্তা। এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশকে 'জিসিএম চ্যাম্পিয়ন কান্ট্রি' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। আইওএম-এর সহযোগিতায় এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এই নতুন ৫ বছর মেয়াদি (২০২৬-৩০) 'ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান' (ন্যাপ) প্রণয়ন করা হয়েছে।
Comments