অবশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন বিজয়, গঠন করছেন সরকার
ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর অবশেষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন অভিনেতা ও রাজনীতিক থালাপতি বিজয়। দীর্ঘ তিন দিনের রাজনৈতিক নাটকীয়তা শেষে আজ শুক্রবার (৮ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজ্যপাল আর ভি আর্লেকারের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকেই তিনি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করবেন।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্ত্রি কাঝাগম (টিভিকে) নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হলেও সরকার গঠনে ১০টি আসন কম ছিল। শেষ মুহূর্তে কয়েকটি দলের সমর্থনে সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে টিভিকে। এরমধ্যে টিভিকে: ১০৮ আসন, কংগ্রেস: ৫ আসন (শর্তসাপেক্ষে), ভিসিকে : ২ আসন, সিপিআই (এম): ২ আসন, সিপিআই: ২ আসন। মোট সমর্থন: ১১৯ আসন (প্রয়োজনীয় ১১৮-এর বেশি)
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার পর পর দুই দিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেও সরকার গঠনের অনুমতি পাননি বিজয়। রাজ্যপাল আর ভি আর্লেকার স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, প্রয়োজনীয় ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ ছাড়া তিনি কাউকে আমন্ত্রণ জানাবেন না। ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে স্থায়ী সরকার চালানো সম্ভব এবং অন্য কোন দলগুলো সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে—এমন প্রশ্নে বিজয়ের আগের জবাবগুলোতে সন্তুষ্ট ছিলেন না রাজ্যপাল। ভিসিকে এবং বাম দলগুলো আগে ডিএমকে-র জোটসঙ্গী থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা বিজয়কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, টিভিকে কোনোভাবেই 'সাম্প্রদায়িক শক্তি' বা বিজেপির সঙ্গে জোট করতে পারবে না।
বিজয়ের এই সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গত ৬২ বছরের প্রথাগত ধারা ভেঙে গেল। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে রাজ্যটির শাসনক্ষমতা ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-র হাতে সীমাবদ্ধ ছিল। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয়ের এই উত্থানকে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের ক্ষমতার পটপরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
Comments