জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী: কোর কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর মাঠে থাকার পর অবশেষে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির প্রথম সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশ থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আগামী ৬ জুন প্রত্যাহারের কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে। প্রথমে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে সেনা সরানো হবে। পরবর্তী ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলাগুলো থেকে সদস্যদের ফিরিয়ে আনা হবে। বর্তমানে মাঠে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্বরত আছেন। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনে সদস্যদের ক্লান্তি এবং স্বাভাবিক প্রশিক্ষণ ব্যাহত হওয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ নেই, তাঁদের জামিনে বাধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কোনো সাংবাদিক বিদেশ ভ্রমণে যেতে চাইলে তাঁকে হয়রানি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইস্যু করা সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করেই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদক নির্মূলে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে।
সভায় পুলিশের পোশাক নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে জানানো হয়, পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের ইউনিফর্ম হিসেবে নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্টই বহাল থাকছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের নিরাপত্তার জন্য 'গানম্যান' নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন তৎকালীন সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তন এবং পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মাঠে রেখে দেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সেনাপ্রধানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন তাঁদের মূল কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
Comments