পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৪
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন তৃণমূল কংগ্রেসের এবং দুইজন বিজেপির কর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সহিংসতা দমনে গিয়ে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে আহত হয়েছেন ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন করসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
কলকাতা: বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়ককে (৪২) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, সোমবার রাতে বাড়ি থেকে বের হলে দুষ্কৃতকারীরা তাকে আক্রমণ করে। এছাড়া নিউ মার্কেট, নিউ টাউন ও ধর্মতলায় একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাওড়া: উদয়নারায়ণপুরে বিজয়োল্লাসের সময় যাদব কর (৪৫) নামে এক বিজেপি সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বীরভূম: নানুরের সন্তোষপুর গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতি আবির শেখকে (৪০) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া সিউড়িতে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
রাজারহাট: বালিগড়ি এলাকায় মধু মণ্ডল (৪৬) নামে এক বিজেপি কর্মীকে হত্যার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যান্য এলাকা: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম, বর্ধমানের মেমারি, ভাতার ও মন্তেশ্বরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং মারধরের অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০২১ সালের তুলনায় এবার পরিস্থিতি অনেক শান্ত। তবে বর্তমান সহিংসতার প্রেক্ষিতে মানবাধিকার ও নারী কমিশনের নীরবতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আইন নিজের হাতে নেবেন না। আপাতত দুই-তিন দিন কোনো বিজয় মিছিল করবেন না এবং তৃণমূলের কোনো কার্যালয়ে হাত দেবেন না।"
সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকজন নবনির্বাচিত বিজেপি প্রার্থী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন:
-
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি) তৃণমূল কার্যালয়ে লাগানো বিজেপির পতাকা নিজ হাতে সরিয়ে দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থার দাবি জানান।
-
সৌমেন কার্ফা (ভাতার) হ্যান্ডমাইক নিয়ে ঘুরে ঘুরে শান্তির বার্তা দেন এবং তৃণমূল কার্যালয় থেকে দলীয় ফেস্টুন সরিয়ে দিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান জানান।
-
মানব গুহ (মেমারি): পুলিশকে দলমত নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেন।
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে গুজব সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই ধরণের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
Comments