রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার দাবি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নৈতিকতা ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর দ্রুত অপসারণ এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।"
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বর্তমান রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন যখন দুদকের কমিশনার ছিলেন, তখন তাঁকে তিনটি নির্দিষ্ট 'অ্যাসাইনমেন্ট' দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো হলো: ১. বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের শাস্তি নিশ্চিত করা। ২. পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে 'ক্লিনচিট' দেওয়া। ৩. ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো বাতিল করা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০১ সালে হিন্দু নির্যাতনের সাজানো প্রতিবেদনে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করার পেছনেও এই সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা ছিল, যা আওয়ামী লীগ বিশ্বজুড়ে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ব্যবহার করেছিল।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন এবং ব্যাংকটি লুণ্ঠনের অন্যতম কারিগর ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁর ভূমিকা এবং ফ্যাসিবাদের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার কড়া সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম তাঁকে 'গণহত্যার দোসর' ও 'মিথ্যুক' বলে অভিহিত করেন।
নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপরই ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু তখন বিএনপি 'সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার' দোহাই দিয়ে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, তবে কেন এই দুর্নীতিবাজ ও অপদার্থ ব্যক্তিকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?"
তিনি স্পষ্ট জানান যে, এই রাষ্ট্রপতির বক্তব্য তিনি শোনেননি এবং পড়েনওনি। এমন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেনে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য চরম দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
Comments