বাণিজ্য চুক্তিতে কোনো গোপনীয়তা নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিতে কোনো ধরনের গোপনীয়তা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সম্পাদিত এই চুক্তিকে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে অভিহিত করেন এবং এটি দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন পাসের আহ্বান জানান। চুক্তির প্রধান দিকগুলো হলো: বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য (গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা) আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানির একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এই চুক্তির আওতায় রয়েছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে ক্রিস্টেনসেন বলেন, "বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করা এখনও বেশ কঠিন।" তিনি বড় বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসার পরিবেশ সংস্কারের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে: অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও জটিল লাইসেন্সিং পদ্ধতি দূর করা। ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। শ্রম ও পরিবেশগত মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ওষুধ শিল্পের প্রসারে মার্কিন বাজার উন্মুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রদূতের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আরও সহজে প্রবেশাধিকার পাবে।
Comments