হত্যাচেষ্টার অভিযোগ: সংসদে নিরাপত্তা চাইলেন জামায়াত এমপি
পেশাদার কিলার ভাড়া করে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফা। আজ রবিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই দাবি জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মাছুম মোস্তফা তাঁর ওপর হওয়া হামলার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
মাছুম মোস্তফা সংসদকে জানান, মাগরিবের নামাজের সময় একটি ফিলিং স্টেশনের মসজিদে থাকাকালীন বিএনপির নামধারী কিছু সন্ত্রাসী তাঁর গাড়িতে হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন: হামলাকারীরা মসজিদে ঢুকে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিলে অস্ত্র দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়। এমপি দাবি করেন, পরে তিনি জানতে পেরেছেন তাঁকে হত্যার জন্য সেখানে ভাড়াটে পেশাদার খুনি আনা হয়েছিল। স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "পরিস্থিতি এমন ছিল যে, হয়তো আজ আমার জন্য এই সংসদে শোক প্রস্তাব আনতে হতো এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করতে হতো।"
স্পিকার জানান যে তিনি বিষয়টি পত্রিকায় দেখেছেন এবং পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এর জবাবে মাছুম মোস্তফা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাত্র একজন তালিকাভুক্ত আসামি, বাকিরা নিরপরাধ এবং আজ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মূল আসামিরা প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং করছে এবং পুলিশ তাদের ধরছে না। তিনি প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংসদ সদস্যের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন:
"সংসদ সদস্যের সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (সংসদ নেতা) পাশেই বসে আছেন এবং তিনি আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।"
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন এবং মন্ত্রী ও সরকারের আশ্বাসের ওপর ভরসা রেখে ফলাফল দেখার জন্য এমপি মাছুম মোস্তফাকে অপেক্ষা করতে বলেন।
Comments