পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তার আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী
বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে দেওয়া এক বাণীতে তিনি পহেলা বৈশাখকে বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পহেলা বৈশাখ নতুনের আহ্বান নিয়ে আমাদের জীবনে ফিরে আসে। এটি আমাদের পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য প্রেরণা জোগায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ অঞ্চলের কৃষক আজও ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করেন, যা তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগেও আমাদের কৃষি ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।
বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলোর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন: "এসব উৎসব আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরে এবং আমাদের জাতীয় ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে।"
নববর্ষের বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি ঘোষণা করেন: পহেলা বৈশাখ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে 'কৃষক কার্ড' চালু হচ্ছে। এই কার্ড বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশ্বজুড়ে চলমান নানা সংকট ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চাকে তিনি অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন।
পরিশেষে তারেক রহমান বলেন, "নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমাদের অঙ্গীকার হোক—সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করা। অতীতের সব হতাশা কাটিয়ে আমরা যেন নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে পারি।"
Comments