আগামী সপ্তাহে দেশে আসছে এলএনজি ও এলপিজি-বাহী ৫ জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বোঝাই অন্তত পাঁচটি বড় জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টরা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, পাঁচটি জাহাজই বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে: ১০ এপ্রিল (শুক্রবার): মালয়েশিয়া থেকে ২,৪৭০ টন এলপিজি নিয়ে 'মর্নিং জেলি' চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। একই দিনে প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি নিয়ে 'ইএমইআই' মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) পৌঁছাবে। ১১ এপ্রিল: প্রায় সমান পরিমাণ এলএনজি নিয়ে 'কংটং' নামক আরও একটি জাহাজ মহেশখালীতে নোঙর করবে। ১৩ এপ্রিল: মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে 'পল'। ১৫ এপ্রিল: অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬৪,৬৭৮ টন এলএনজি নিয়ে পৌঁছাবে 'ম্যারান গ্যাস হাইড্রা'।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামিম জানান, পাঁচটি জাহাজেরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির জানান, চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং গ্যাস খালাস চলছে।
জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনেও ইতিবাচক খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ২৬,০০০ টন অকটেন নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে আসা ট্যাঙ্কার 'এমটি সেন্ট্রাল স্টার' চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়েছে এবং তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত মার্চ মাসে ৮টি জাহাজে করে প্রায় ৬ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এপ্রিলের শুরুতেও যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে দুটি বড় চালান দেশে এসেছে। নতুন এই পাঁচটি জাহাজ পৌঁছালে দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকট অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Comments