ডিজেল সংকটে মৎস্য খাতে স্থবিরতা: বিপাকে উপকূলের লাখো জেলে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের মৎস্য খাতে। তীব্র ডিজেল সংকটে উপকূল ও নদীতীরবর্তী এলাকার লাখ লাখ জেলে এখন কর্মহীন। জাল-নৌকা প্রস্তুত থাকলেও তেলের অভাবে সাগরে বা নদীতে যেতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। ফলে দেশের মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাজারো মৎস্যজীবী গত এক সপ্তাহ ধরে নৌকা ঘাটে বেঁধে বসে আছেন। শরীয়তপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী ও খুলনাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে ডিজেল না পেয়ে ঘাটে বেঁধে রাখা হয়েছে ট্রলার। বাজারে ডিজেল মিলছে না, আর যা পাওয়া যাচ্ছে তার দাম সাধারণ জেলের সাধ্যের বাইরে। জেলেরা জানান, পাম্পগুলোতে তেল নেই, আর খোলা বাজারে লিটারপ্রতি ১৫০-১৭০ টাকায় তেল বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ জেলের সাধ্যের বাইরে। সাগরে মাছ আহরণ ইতোমধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ কমে গেছে। মৎস্য আড়তগুলোতে মাছের সরবরাহ প্রায় বন্ধ। দেশের নিবন্ধিত ১৮ লাখ জেলের পাশাপাশি এই খাতের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৫০-৬০ লাখ মানুষের জীবিকা এখন হুমকির মুখে। বরফকল, পরিবহন ও আড়ত শ্রমিকরাও কাজ হারিয়েছেন।
জ্বালানি সংকটের এই চরম মুহূর্তেই এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে টানা ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। বছরের প্রায় ১৪৮ দিন বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেরা আগে থেকেই চাপে ছিলেন। ট্রলার মালিকদের দাবি, ব্যাংক ঋণের কিস্তি এবং ট্রলার পরিচালনার ব্যয় ৭০ শতাংশ বাড়লেও আয় এখন শূন্যের কোঠায়।
বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশন ও স্থানীয় ট্রলার মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, দৈনিক ১৫ থেকে ২৫ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ১০ শতাংশেরও কম। সংকটের সুযোগে কৃত্রিম দাম বৃদ্ধির অভিযোগও উঠেছে। জেলেরা অবিলম্বে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের দাবিতে ও কৃত্রিম সংকটের প্রতিবাদে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জেলেরা। বরগুনার বদরখালীতেও মানববন্ধন হয়েছে। জেলেদের অভিযোগ, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে চড়া দামে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন, ঈদের পর থেকে নদীতীরবর্তী বাজারগুলোতে তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনগুলো জানিয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে তেল বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Comments