ব্যতিক্রমী ভোটকেন্দ্র চাঁদপুর-৪ আসন!
আগামীকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে ৩০০ আসনেই কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে।
পীরের কথা মেনে গত ৫৪ বছর ধরে এই আসনের অন্তর্ভুক্ত রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা ভোট দিতে যান না। মাঝেমধ্যে কিছু নারী ভোট দিলেও সেটি নগণ্য। এবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের ফলে ভাঙছে দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলা সেই নিয়ম। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটকেন্দ্রে নিয়োগ করা হয়েছে শুধুই নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। নেওয়া হয়েছে পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সত্তরের দশকে জৈনপুরের পীরের অনুরোধ মেনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটের সময়ে ভোট দিতে যান না। মাঝেমধ্যে দু-একটি ভোটের সময় প্রার্থীদের কাছের আত্মীয়রা ভোট দিলেও তার সংখ্যা ছিল নগন্য। যদিও ভোট ছাড়া আর বাকি সব কাজেই ওই ইউনিয়নের নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। বিচরণ করেন হাট-বাজারসহ যাবতীয় কাজে।
এবার এই ইউনিয়নের নারীরা যেন ভোট দিতে কেন্দ্রে যান, সেজন্য মোট ৮টি কেন্দ্রেই পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেখানে মোট ১০ হাজার ২৯৯ জন নারী ভোট দেবেন।
ফরিদগঞ্জ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রে নারী ভোটের জন্য ২০টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। ওই বুথগুলোর জন্য সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদের নিয়োগ করা হয়েছে।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য পুলিশ, আনসার-ভিডিপি এবং ৮টি কেন্দ্রের জন্য একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮ জন প্রার্থীকে ওই বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার জন্য চিঠি ও মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নারীদের ভোটের জন্য নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব নারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নারীদের পর্দা মেনে ভোট দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এবার নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে আসবেন।
Comments