দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের বিক্রি বৃহস্পতিবার থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেড। সমিতির দাবি, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।
এর আগে সমিতিটি কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সমগ্র দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য সমিতি একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশে বলা হয়েছে, সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে।
এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। বেলা তিনটায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দাবি মানা হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি শুরু হবে। আর না হলে বিক্রি বন্ধ থাকবে।
বুধবার সকালে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধের হুমকি দেয় সংগঠনটি।
সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজির দাম নিয়ে চরম নৈরাজ্যের মধ্যেই বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, এলপিজি পরিবেশক আমাদের লাইসেন্সি না হওয়ায় আইনগতভাবে তাদের দাবি আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রস্তাব আসতে হবে লাইসেন্সির (আমদানিকারক) দিক থেকে। আমদানিকারক আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে গণশুনানি করে তারপর সিদ্ধান্ত দিতে হবে। গণশুনানিতে তাদের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে।
বর্তমানে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চরম সংকটময় মুহূর্ত চলছে বলে দাবি করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সংগঠনটি বলছে, ২৭টি কোম্পানির সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল (পুনরায় গ্যাস ভরা) হচ্ছে। তার মানে বাকি ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে।
গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, এলপিজি নিয়ে কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত 'কারসাজির' ফল। বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় জরিমানাও করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিইআরসি পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই মূল্য সমন্বয় করেছে। এলপিজির সংকট দূর করায় জোর না দিয়ে বাড়তি দাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার অভিযান চালিয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে। এতে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তারা বলেন, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুনভাবে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হবে। প্রশাসন দিয়ে পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে।
Comments