আলাদীনের চেরাগে বদলে যাওয়া ভাগ্য নিয়ে তোলপাড় ঈশ্বরদী
ঈশ্বরদীর রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মেয়র পদপ্রার্থী মো: জুবায়ের হোসেন বাপ্পি। তার ফেসবুকে দেওয়া একটি খোলা চিঠি -
ঈশ্বরদীবাসীর বিবেকের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন শিরোনামে এখন ঈশ্বরদীর চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আর্থিক উত্থান নিয়ে।
যা বলেছেন জুবায়ের হোসেন বাপ্পি:
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর কোন আলাদীনের চেরাগের ছোঁয়ায় জাকারিয়া পিন্টু সহ চার ভাইয়ের ভাগ্য এমনভাবে বদলে গেল যে, তারা কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে সিনেমার স্টাইলে চলাফেরা করছেন?
তার প্রশ্ন, সুপারশপ আর ডিশ লাইনের মতো সাধারণ ব্যবসা করে কতজন রাতারাতি কোটি টাকার মালিক হন? এত অল্প সময়ে এমন বিলাসবহুল জীবন গড়ে তোলা কি সাধারণ ব্যবসা থেকে সম্ভব?
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, এর পেছনে EPZ, হাট-বাজার, বালুমহল, টেম্পো ও বাস ডিপো ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অবৈধ অস্ত্রের কারবার বা মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, "অবশ্যই অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন।"
তিনি লিখেছেন, সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, যারা কোটি টাকার গাড়িতে ঘুরে বেড়ান, তাদের পেছনে রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে যোগ দিতে অনেকে মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা হাজিরার বিনিময়ে রাস্তায় নামেন।
তিনি সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের বিবেককে প্রশ্ন করতে বলেছেন - আপনি কি নিজের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি করছেন, নাকি অন্যের বিত্ত-বৈভব বাড়ানোর হাতিয়ার হচ্ছেন?
ঈশ্বরদী কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, এই জনপদের সম্পদ, সম্মান ও ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। অন্ধ আনুগত্য নয়, প্রশ্ন করুন। গুজবে বিশ্বাস নয়, সত্য যাচাই করুন। ব্যক্তিপূজা নয়, জবাবদিহি নিশ্চিত করুন।
তার ভাষায়, আপনার ঘামের টাকায় কেনা সামান্য সমর্থনও যদি কারো অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার শক্তি হয়ে ওঠে, তবে ক্ষতিটা শেষ পর্যন্ত আপনার, আমার—পুরো ঈশ্বরদীবাসীর।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই বক্তব্যের পর ঈশ্বরদীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, এটি সাহসী উচ্চারণ। দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদীতে চাঁদাবাজি, ঘাট দখল, পরিবহন সেক্টরে আধিপত্য নিয়ে যে গুঞ্জন ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে এলো। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকারিয়া পিন্টুর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
জুবায়ের হোসেন বাপ্পি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মানেই তিনি দোষী নন। একজন রাজনৈতিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। আমরা কোনো পক্ষের হয়ে নয়, সত্যের পক্ষে। যদি নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে অভিযুক্তদের সম্মানহানি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর যদি সত্য হয়, তবে ঈশ্বরদীবাসীকে এই জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঈশ্বরদীতে রাজনীতি হবে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য, কোনো ব্যক্তির বিত্ত-বৈভব বাড়ানোর সিঁড়ি হিসেবে নয়—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
Comments