দেশবরেণ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও দেশবরেণ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৭ জুলাই। ২০২০ সালের এই দিনে হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ৮৬ বছর বয়সে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর বেসরকারি ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রখ্যাত এই শিক্ষাবিদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও 'জাতীয় জনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ' তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদারের নেতৃত্বে মরহুমের কবর জিয়ারত, কোরআন তিলাওয়াত ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন অত্যন্ত মৃদুভাষী ও অনন্য সৌজন্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর মৃত্যুতে জাতি একজন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী এবং দেশের শিক্ষাঙ্গনের এক সুউচ্চ মিনারকে হারিয়েছে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত এই প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক দেশের রাষ্ট্রচিন্তা, সমাজব্যবস্থা ও গণতন্ত্র প্রভৃতি বিষয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘকাল শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও প্রক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্মরণসভায় জাতীয় জনতা ফোরামের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন,'আজকের এই ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রয়াত এমাজউদ্দীন আহমদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।'
তিনি আরও জানান, প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী থেকে শুরু করে আজ ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পর্যন্ত প্রতিবছরই তিনি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে এবারও তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামীকাল কোরআন খতম, পুনরায় কবর জিয়ারত, বিশেষ দোয়া মোনাজাত এবং এতিমদের মাঝে সাধ্যমতো খাবার বিতরণ। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি দেশবাসীর কাছে মরহুমের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
আজ ১৭ জুলাই ২০২৬। সময়-নদীর প্রবল স্রোতে আমাদের মাঝ থেকে অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের বিদায় নেওয়ার ছয়টি বছর পূর্ণ হলো। এই ছয় বছরে বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে গভীর ওলটপালট এবং গুণগত রূপান্তর ঘটে গেছে। ইতিহাসের এই নতুন বাঁকে দাঁড়িয়ে অবধারিতভাবেই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে আমাদের এই প্রিয় শিক্ষক ও অভিভাবককে।
২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে দেশ যে নতুন এক 'জন-আকাঙ্ক্ষা' বুকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ড. এমাজউদ্দীন আহমদের রাষ্ট্রচিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শন কেবল প্রাসঙ্গিকই নয়; বরং পথ হারানোর মুহূর্তে এক অনন্য আলোকবর্তিকা। পরম বেদনার বিষয়, তাঁর সারাজীবনের আরাধ্য যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের দুয়ার আজ উন্মোচিত হয়েছে, সেই ঐতিহাসিক বিজয়ের রূপরেখা দেখে যাওয়ার সৌভাগ্য এই ইমেরিটাস অধ্যাপকের হলো না।
Comments