শুকিয়ে যাওয়া গাছে ফের প্রাণ, রান্নাঘরের ৫ উপাদানেই মিলবে সমাধান
ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই ইন্ডোর কিংবা ব্যালকনিতে নানা ধরনের গাছ রাখেন। তবে নিয়মিত পরিচর্যার অভাব, পুষ্টির ঘাটতি, অতিরিক্ত পানি কিংবা ছত্রাকের কারণে অনেক সময় গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়, শুকিয়ে যেতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমেই দামি রাসায়নিক সার বা ওষুধের দিকে না গিয়ে ঘরে থাকা কিছু সাধারণ উপাদান কাজে লাগানো যেতে পারেতবে মনে রাখতে হবে, গাছের সমস্যার কারণ ভেদে সমাধানও আলাদা। তাই যেকোনো উপাদান ব্যবহারের আগে গাছের প্রয়োজন ও মাটির অবস্থা বুঝে নেওয়া জরুরি।
১. ডিমের খোসা
ডিমের খোসায় ক্যালশিয়াম থাকে। তাই খোসা ফেলে না দিয়ে গাছের মাটিতে ব্যবহার করলে গাছের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হবে। ডিমের খোসা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর গুঁড়ো করে টবের মাটির ওপর অল্প পরিমাণে ছড়িয়ে হালকা করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন।
২. ব্যবহৃত চা পাতা ও কফি
চা পাতা ও কফির অবশিষ্টাংশে কিছু জৈব উপাদান ও পুষ্টি থাকে, যা কম্পোস্ট বা মাটির উপাদান হিসেবে কাজে লাগতে পারে। ব্যবহৃত চা পাতা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর অল্প পরিমাণে টবের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সরাসরি বেশি পরিমাণে ব্যবহার না করাই ভালো।
৩. চাল বা ডাল ধোয়া পানি
চাল ও ডাল ধোয়ার পানি অনেকেই গাছের পরিচর্যায় ব্যবহার করেন। এতে সামান্য পুষ্টি ও জৈব উপাদান থাকতে পারে। চাল বা ডাল ধোয়ার পর পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি গাছে দেওয়া যেতে পারে। তবে পানিতে লবণ, মসলা বা অন্য কোনো উপাদান মেশানো থাকলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত পানি না দিয়ে গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
৪. কলার খোসা
কলার খোসায় পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। তাই এটি সরাসরি ফেলে না দিয়ে জৈব সার তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। কলার খোসা ছোট টুকরো করে পানিতে কয়েক দিন ভিজিয়ে রাখতে পারেন। পরে ছেঁকে সেই পানি মাটিতে দিতে পারেন। আবার খোসা ভালোভাবে শুকিয়ে গুঁড়ো করে কম্পোস্টের সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়।
৫. দারুচিনি ও হলুদ
টবের মাটির ওপর সাদা বা ধূসর আস্তরণ দেখা গেলে সেখানে ছত্রাকের উপস্থিতি থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাটির অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দারুচিনি বা হলুদের মতো কিছু মসলা ঘরোয়া ব্যবস্থায় ব্যবহার করেন অনেকে।
আক্রান্ত মাটির ওপর খুব অল্প পরিমাণ দারুচিনি বা হলুদের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে এটিকে নিশ্চিত ছত্রাকনাশক হিসেবে ধরে না নিয়ে সমস্যাটি গুরুতর হলে উপযুক্ত উদ্ভিদ-চিকিৎসা বা অনুমোদিত ছত্রাকনাশকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গাছ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ আগে চিহ্নিত করা। অতিরিক্ত পানি, অপর্যাপ্ত আলো, দুর্বল মাটি, পোকামাকড় বা শিকড়ের সমস্যা থাকলে শুধু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করলেই গাছ সুস্থ নাও হতে পারে। সঠিক আলো, পানি নিষ্কাশন, মাটির গুণমান এবং নিয়মিত পরিচর্যার দিকেও নজর দিতে হবে।
Comments