কৃত্রিম চিনি বাড়াতে পারে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনে অভ্যস্ত অনেকেই চিনি বাদ দিয়ে কৃত্রিম মিষ্টি বা চিনির বিকল্প বেছে নেন। তবে নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, চিনির বিকল্প হিসেবে বহুল ব্যবহৃত 'জাইলিটল' অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিতে পারে।
সম্প্রতি জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজির (ইএসসি) কংগ্রেসে এই গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে জাইলিটলের মাত্রা যাঁদের বেশি, তাঁদের গুরুতর হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।
জাইলিটল হলো এক ধরনের 'সুগার অ্যালকোহল', যা কম ক্যালরির মিষ্টি এবং চিনির বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। খাবার, পানীয়, চুইংগাম ছাড়াও মুখের স্বাস্থ্যের যত্নে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যেও এটি মিষ্টি স্বাদ আনতে ব্যবহার করা হয়।
কানাডা ও যুক্তরাজ্যের ১৭ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের ওপর চালানো দীর্ঘমেয়াদি দুটি গবেষণা দলের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে।
এই দলের অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ছয় বছর পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেছে, রক্তে জাইলিটলের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকা ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদ্রোগজনিত কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি সর্বনিম্ন মাত্রা থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় ৫৭০ শতাংশ (বা ৫৭%) বেশি।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে চলা এই গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে জাইলিটলের আধিক্য বড় ধরনের হৃদ্রোগজনিত ঘটনার ঝুঁকি ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।
বয়স, লিঙ্গ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং রক্তে চর্বির মাত্রার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই ফলাফলে একই প্রবণতা দেখা গেছে।
গবেষণার উপস্থাপক জার্মানির শারিতে ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মার্কো উইটকোভস্কি বলেন, কৃত্রিম চিনি সাধারণত স্বাস্থ্যকর মনে করে মানুষ বেশি গ্রহণ করে থাকে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছেও এটি নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত। তবে জাইলিটলের সঙ্গে রক্তের প্লেটলেট জমাট বাঁধার বা রক্তে ক্লট তৈরির সংযোগ থাকতে পারে বলে আগের গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছিল।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। তাই রক্তে জাইলিটলের উচ্চ মাত্রাই সরাসরি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক ঘটিয়েছে—এমন কারণ-ফল সম্পর্ক এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে না। এছাড়া মানবদেহে গ্লুকোজ বিপাকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও জাইলিটল তৈরি হতে পারে।
লন্ডনভিত্তিক হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যকর্মী ড. আসিম মালহোত্রা এই ফলাফলকে উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে জাইলিটল গ্রহণের কারণে ঠিক কী পরিমাণ ঝুঁকি তৈরি হয়, তা নির্ধারণে আরও বড় ও নিয়ন্ত্রিত গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা।
Comments