কেরানীগঞ্জে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে কিশোর নিহত, আহত ২
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নাঈম মোল্লা (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই কিশোর আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকার ডিপজলের গলিতে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নাঈম মোল্লা গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাঈম মোল্লা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে। পরিবারসহ তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা পানির ট্যাংকি এলাকায় বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে তিনি একটি প্যান্ট তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
একই ঘটনায় রবিন (১৬) নামে আরেক কিশোর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এছাড়া প্রতিপক্ষের তাজ (১৫) গুরুতর আহত হলে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার মূল বিরোধ ছিল তাজ ও রবিনের মধ্যে। গত রমজান মাসে তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে কয়েকদিন আগে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকায় যাতায়াতের সময় সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহত নাঈম বিরোধের মূল পক্ষ ছিলেন না। তিনি তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার শিকার হন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি, তবে উভয় পক্ষই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Comments