এক লাখ টাকার ঋণ, বারো লাখ টাকার মামলা, হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীর
নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মেনু মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে টাকা ধার দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্ট্যাম্প ও খালি ব্যাংক চেক সংগ্রহ করে রাখেন। পরবর্তীতে এসব নথি ব্যবহার করে অনেককে আর্থিক ও আইনি জটিলতায় ফেলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার কর্মকাণ্ডের কারণে একই গ্রামের সেন্টু মিয়া, আমিনুল বেগমসহ একাধিক ব্যক্তি আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঋণের বোঝা ও মামলা-সংক্রান্ত হয়রানির কারণে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান এলাকাবাসী।
এমনই একজন ভুক্তভোগী বল্লী গ্রামের মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে তানসেন মিয়া বলেন, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মেনু মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সে সময় নিরাপত্তা জামানত হিসেবে একটি খালি ব্যাংক চেক দিতে বাধ্য হন। কিন্তু পরে সেই চেক ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে খালিয়াজুরী আমলী আদালতে ১২ লাখ টাকার মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তানসেন মিয়া আরও বলেন, আমি মাত্র এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম। কিন্তু আজ সেই ঋণ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি খালি চেক দেওয়ার ভুলে এখন ১২ লাখ টাকার মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরছি। বিচার পাওয়ার আশায় অনেকের দ্বারস্থ হয়েছি, কিন্তু কোথাও কোনো সহযোগিতা পাইনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। প্রতিদিন মনে হয়, এই হয়রানি থেকে মুক্তি পাব তো? আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। তার দাবি, মামলার চাপ ও আর্থিক সংকটের কারণে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাতেও তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুদের কারবারের মাধ্যমে বহু পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেনু মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
Comments