কনকর্ড গ্রুপের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে রাজধানীতে রড পড়ে যুবক নিহত
নিজের সংগঠনের আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্টে উপস্থিত থেকে শুক্রবার বিকেলে পুরস্কার বিতরণের কথা ছিল আশফাক চৌধুরীর (৪০)। এ জন্য বৃহস্পতিবার রাতের ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার টিকিটও কেটেছিলেন। কিন্তু সেটি আর হলো না। জীবিত নয়, গ্রামে ফিরছে তার লাশ।
নিহত আশফাক চৌধুরী (৪০) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বরুমচড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মো. নাদেরুজ্জামান চৌধুরী বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান এলাকায় একটি ভবনের নিচ দিয়ে হেঁটে নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন আশফাক চৌধুরী। এ সময় কনকর্ড গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ওপর থেকে একটি রড নিচে পড়ে তাঁর মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।
আশফাক চৌধুরী গুলশানে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক কন্যাসন্তান, মা–বাবা, ভাই–বোনসহ বহু আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার তার মরদেহ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বরুমচড়া গ্রামে দাফন করা হয়।
আশফাকের খালাতো ভাই শহীদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন জাগরণী ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আশফাক। ওই সংগঠনের আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় উপস্থিত থাকতে বৃহস্পতিবার রাতেই তার চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা ছিল। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, 'কিন্তু আমরা তাঁকে জীবিত নিতে পারলাম না। লাশ নিয়েই গ্রামে ফিরেছি'।
Comments