মালদ্বীপের থুলুসধুতে প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিল বাংলাদেশ হাইকমিশন
মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য দূরবর্তী দ্বীপে সরাসরি কনস্যুলার সেবা, সমস্যা-সমাধানে মাঠপর্যায়ে উদ্যোগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে সম্প্রতি কাফু অ্যাটলের থুলুসধু দ্বীপ সফর করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।
সফরকালে দ্বীপটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, আইনগত সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার প্রাপ্তি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। থুলুসধু কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, মালদ্বীপের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। একই সঙ্গে তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। ফলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।
সফরকালে হাইকমিশনের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে ই-পাসপোর্ট ও বিএমইটি স্মার্ট কার্ডের আবেদন গ্রহণ করা হয়। দ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসীরা নিজ কর্মস্থলের কাছেই এ সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধি দল প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও পরামর্শ শোনে। সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্লাহ শ্রমসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানে হাইকমিশনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
এ সময় প্রবাসীদের মধ্যে খেলাধুলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়।
হাইকমিশনার বলেন, বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশির নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রবাসীদের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ হাইকমিশন সর্বদা পাশে থাকবে এবং সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণে কাজ করবে।
থুলুসধু সফরকে প্রবাসী-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা একদিকে প্রবাসীদের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।
Comments