বাংলাদেশ-সান মারিনো ম্যাচের টিকিট শেষ: হতাশ হাজারো প্রবাসী
ইউরোপের মাটিতে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে ফুটবলারদের লড়াই দেখার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, তাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকিটের দুষ্প্রাপ্যতা। আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রীতি ম্যাচের সব টিকিট শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। গত তিন দিনের প্রবল উন্মাদনার পর টিকিট না পেয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন ইতালি ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে ম্যাচটি দেখতে উন্মুখ হয়ে থাকা হাজারো প্রবাসী ভক্ত।
সান মারিনো ফুটবল ফেডারেশনের (FSGC) নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে গত ৫ মে থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। বিক্রির শুরু থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের প্রচণ্ড চাপে অনলাইন পোর্টালে ভিড় বাড়তে থাকে। সান মারিনো স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ৬,৬৬৪ হওয়ায় চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য।
টানা তিন দিন ব্যাপক বিক্রির পর ৮ মে দুপুরের পর থেকে টিকিট বিক্রির সাইটগুলোতে 'নট অ্যাভেইলেবল' (Not Available) সংকেত দেখা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য বরাদ্দ করা গ্যালারির অংশটি সবার আগে শেষ হয়ে যায়। টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক ফুটবলপ্রেমী। ইতালিতে বসবাসরত এক প্রবাসী বলেন: "কয়েক মাস ধরে এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। ভেবেছিলাম সপরিবারে স্টেডিয়ামে গিয়ে হামজাদের সমর্থন দেব। কিন্তু আজ অনলাইনে ঢুকে দেখি সব টিকেট শেষ। আমরা বাফুফের কাছে অনুরোধ জানাই আয়োজকদের সাথে কথা বলে নতুন করে কিছু আসন বাড়ানো যায় কি না।"
সান মারিনো ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো টিকিট ছাড়ার ঘোষণা না দিলেও, টিকিট বিক্রির পোর্টালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে আর নতুন করে টিকিট ইস্যু করা সম্ভব হচ্ছে না। ইউরোপের প্রবাসীদের মাঝে বাংলাদেশ দল নিয়ে যে পরিমাণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা আয়োজকদের কাছেও ছিল অভাবনীয়।
এটিই প্রথম কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জাতীয় দলের আনুষ্ঠানিক ফিফা প্রীতি ম্যাচ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দল কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও ইউরোপীয় কন্ডিশনে এই লড়াইকে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি বড় পরীক্ষা ও মাইলফলক হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
বিদেশের মাটিতে প্রবাসীদের এই অভাবনীয় উন্মাদনা প্রমাণ করছে যে, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভিনদেশেও বাংলার ফুটবলের জোয়ার কতটা শক্তিশালী। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে প্রবাসীদের এই আবেগের কথা বিবেচনা করে সান মারিনো ফেডারেশন বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না।
Comments