লন্ডনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন ইউকে’র বার্ষিক সাধারণ সভা এবং ৩০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান
গত ৩ মে, রবিবার, লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি হলে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এক্স-স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন ইউকে'র বার্ষিক সাধারণ সভা এবং সংগঠনের ৩০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মিলনমেলায় রূপ নেয় পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
সংগঠনের সভাপতি এ কে এম ইয়াহইয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু নছর তালুকদারের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সহ-সভাপতি জনাব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক থেকে অর্থসহ পাঠ করেন আনন্দ বড়ুয়া।
শুরুতেই সংগঠনের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাধারণ সম্পাদক আবু নছর তালুকদার আবেগঘন বক্তব্যে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সকল পথিকৃৎ, শুভানুধ্যায়ী ও সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং সাধারণ সম্পাদক আবু নছর তালুকদারের সৌজন্যে বিশাল কেক কেটে ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সভাপতি এ কে এম ইয়াহইয়া। তিনি তার বক্তব্যে উপস্থিত সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "নানা চ্যালেঞ্জ, প্রতিকূলতা, মান-অভিমান অতিক্রম করে আমাদের এই সংগঠন আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।" তিনি নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বানও জানান।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সালেহ আহমেদ তার বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে বলেন, সংগঠনের শুরুটা ছিল অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে; কিন্তু সকলের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের ফলে আজ এটি একটি সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তিনি সংগঠনের ঐক্য ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর সাধারণ সম্পাদক আবু নছর তালুকদার সংগঠনের বার্ষিক কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তার প্রতিবেদনে বিগত বছরের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সংগঠনের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে ট্রেজারার জনাব মাসুক আহমদ সুসংগঠিত ও স্বচ্ছ উপস্থাপনার মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। ট্রেজারার মাসুক আহমদকে স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরার জন্য উপস্থিত সদস্যরা ধন্যবাদ জানান।
পরবর্তীতে সংবিধান প্রণয়ন কমিটি কর্তৃক প্রস্তাবিত এবং এক্সিকিউটিভ কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত নতুন সংবিধান সভায় উপস্থিত সকলের অনুমোদনের জন্য ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করেন যথাক্রমে চৌধুরী জিন্নাত আলী, ইউসুফ রেজা এবং মুহাম্মদ আফতাব উদ্দিন। উপস্থিত সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আলোচনা, মতামত ও পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পক্ষে-বিপক্ষে মতামত গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে সংবিধানটি গৃহীত হয়, যা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করবে বলে আশা করা হয়।
এজিএম এর অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব ছিল একাডেমিক কৃতিত্ব ও সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনন্য অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনজনকে বিশেষ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সভাপতি এ কে এম ইয়াহইয়ার উপস্থাপনায় GCSE পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফললের জন্য আয়ুষ সাহাকে এবং সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অবদান এবং সহযোগিতা জন্য প্রিয়ন্তী চৌধুরী ও মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জন্য ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সংগঠনের উপদেষ্টাবৃন্দ এবং সিনিয়র সদস্যরা তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলের জন্য রকমারি খাবার পরিবেশন করা হয়। সব শেষে কালচার সেক্রেটারি শিরিন তাজ মীরার উপস্থাপনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক হয়। এতে শহিদুল ইসলাম সাগর ও ইউসুফ রেজার কবিতা আবৃত্তি, সুমন দাস ও শায়েক আহমেদ সওদাগরের পরিবেশিত হাস্যরসাত্মক কৌতুক এবং ওয়াহিদ জামান উপল ও মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের সঙ্গীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।
Comments