আজহার লিভ টু আপিলের অনুমতি পাবেন কি না, শুনানি বুধবার

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হয়েছে কিনা প্রশ্ন তুলেছেন আপিল বিভাগ। এমনটি জানিয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এটিএম আজহারুল ইসলামের আইনজীবী শিশির মনির। একই সঙ্গে জামায়াতের এ নেতার লিভ টু আপিল করার অনুমতি পাবেন কি না এ বিষয়ে বুধবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আজহারের রিভিউ শুনানি শুরু হয়। পরে শুনানি মুলতবি করা হয় বুধবার পর্যন্ত। সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।
আইনজীবী প্যানেলে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের এ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের শুনানি এদিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন।
এদিন আওয়ামী লীগের সময়ে দেয়া রায়কে প্রহসন বলে দাবি করে আসছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
২৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে বিষয়টি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আজহারের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল বিভাগকে বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি এটিএম আজহারের রিভিউ আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ছিল। কিন্তু ওইদিন শুনানি হয়নি। রিভিউ আবেদনটি শুনানি হওয়া প্রয়োজন। আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। যার আজ শুনানি হলো।
গত ২৩ জানুয়ারি আজহারুলের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের শুনানি পিছিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চে এক বিচারপতি না থাকায় আদালত শুনানির দিন পিছিয়ে দেন ওই সময়।
প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন জামায়াতের এ নেতা। ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। পরে এ রায় পুর্নবিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন আজহার। মুক্তিযুদ্ধ সময় রংপুরে ১২৫৬ ব্যক্তিকে গণহত্যা-হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শতশত বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর বাদে বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে জামায়াত নেতা আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করা হয়।
Comments