নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয়, প্রবাদপ্রতিম ও নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী স্রষ্টা। তার প্রয়াণ দিবসে আজ নুহাশপল্লীসহ দেশজুড়ে তার ভক্ত, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্মরণ করছেন।
কিংবদন্তি এই লেখক ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তার ডাকনাম ছিল 'কাজল'। জন্মের পর বাবার রাখা নাম ছিল শামসুর রহমান, তবে পরবর্তীতে তিনি নিজেই নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন 'হুমায়ূন আহমেদ'। মৃত্যুর ১৪ বছর পরও তিনি কোটি পাঠকের হৃদয়ে সমানভাবে স্মরণীয় ও জীবন্ত হয়ে আছেন।
কর্মজীবনে হুমায়ূন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সাহিত্য সৃষ্টি ও চলচ্চিত্র নির্মাণে পুরোপুরি সময় দেওয়ার জন্য একপর্যায়ে তিনি অধ্যাপনা পেশা ছেড়ে দেন। ১৯৭২ সালে তার প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' প্রকাশিত হওয়ার পর সাহিত্যজগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং তিনি পাদপ্রদীপে চলে আসেন।
হুমায়ূন আহমেদের অনন্য লেখনী বাংলা সাহিত্যকে এক বিশেষ উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে— মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, দেয়াল, মাতাল হাওয়া, শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, কবি, লীলাবতী, গৌরীপুর জংশন এবং এইসব দিনরাত্রি।
শুধু উপন্যাসের পাতায় নয়, তার সৃষ্ট 'হিমু', 'মিসির আলী' ও 'শুভ্র'র মতো কালজয়ী চরিত্রগুলো আজও নতুন প্রজন্মের তরুণ পাঠকদের বুঁদ করে রাখে।
আশির দশকের মাঝামাঝিতে প্রচারিত তার প্রথম ধারাবাহিক নাটক 'এইসব দিনরাত্রি' তাকে বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর নাট্যকার হিসেবে তিনি দর্শকদের মাঝে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেন।
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান সফল ও প্রশংসিত। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন এবং ঘেঁটুপুত্র কমলা। এছাড়া সংখ্যায় কম হলেও তার লেখা গানগুলো শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সমাদৃত ও জনপ্রিয়।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে তাকে রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'একুশে পদক'-এ ভূষিত করা হয়। এছাড়াও তিনি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৭৩ সালে লেখক শিবির পুরস্কার, ১৯৯০ সালে হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে বাচসাস পুরস্কার এবং মাইকেল মধুসূদন পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলা কথাসাহিত্যের এই জাদুকরের আবেদন পাঠক ও দর্শকদের মাঝে চিরকাল অটুট থাকবে।
Comments