নবীজি (সা.)–এর ৭ জন কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবি: বর্ণের ঊর্ধ্বে ঈমানের মর্যাদা
ইসলামের ইতিহাসে কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবিদের প্রসঙ্গ উঠলে সবার আগে যে নামটি আসে, তিনি হযরত বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)। তবে তাঁর বাইরেও এমন অনেক সাহাবি ছিলেন, যাঁদের গায়ের রং ছিল কালো বা তামাটে। বর্তমান সময়ের সুদানি বা ইথিওপিয়ান জনগোষ্ঠীর মতো তাঁদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ছিল, কিন্তু ইসলামে তাঁদের মর্যাদা নির্ধারিত হয়েছে ঈমান, ত্যাগ ও আমলের ভিত্তিতে।
নিচে নবীজি (সা.)–এর এমন সাতজন সাহাবির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো—
উম্মে আইমান (রা.)
তাঁর আসল নাম বারাকাহ। তিনি নবীজি (সা.)–এর পিতা আবদুল্লাহর দাসী ছিলেন। আমিনা (রা.)–এর ইন্তেকালের পর তিনি মাতৃস্নেহে নবীজিকে লালন–পালন করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে 'মা' বলে সম্বোধন করতেন। তিনি ইসলামের প্রথমদিকের মুসলিম এবং মদিনায় হিজরতকারী সাহাবিদের একজন।
ওসামা বিন জায়েদ (রা.)
নবীজির অত্যন্ত প্রিয়ভাজন সাহাবি। তাঁর পিতা জায়েদ বিন হারিসা (রা.) আরব এবং মা উম্মে আইমান (রা.) ছিলেন ইথিওপিয়ান। কিশোর বয়সেই নবীজি তাঁকে রোমানদের বিরুদ্ধে অভিযানের সেনাপতি নিযুক্ত করেন, যা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থানকে স্পষ্ট করে।
সা'দ আল-আসওয়াদ (রা.)
মদিনার আনসার সাহাবি। গায়ের রঙের কারণে সামাজিক বৈষম্যের শিকার হলেও ঈমানের দৃঢ়তায় ছিলেন অবিচল। তিনি একবার নবীজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাঁর রঙ জান্নাতে মর্যাদায় প্রভাব ফেলবে কি না। নবীজি তাঁকে আশ্বস্ত করেন। এক যুদ্ধে শাহাদাতের সময় নবীজি (সা.) তাঁর মাথা কোলে নিয়ে কেঁদেছিলেন।
আম্মার বিন ইয়াসার (রা.)
ধৈর্য ও ত্যাগের অনন্য উদাহরণ। তিনি ও তাঁর পরিবার ইসলামের জন্য কঠোর নির্যাতন সহ্য করেন। তাঁর মা সুমাইয়া (রা.) ইসলামের প্রথম শহীদ। আম্মার (রা.) দুইবার হিজরত করেন এবং বদর, উহুদসহ বহু যুদ্ধে অংশ নেন।
মিহজা (রা.)
মক্কার শুরুর দিকের মুসলিমদের একজন। বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের পক্ষ থেকে প্রথম শহীদ হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করা হয়। তাঁর ত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
আবু যার আল-গিফারি (রা.)
সত্যবাদিতা, খোদাভীতি এবং দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসার জন্য বিখ্যাত। ইসলাম গ্রহণের পর কা'বার সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে তাওহিদের ঘোষণা দিয়ে নির্যাতনের শিকার হন। তাঁর জীবন ছিল ন্যায় ও সরলতার প্রতীক।
আইমান (রা.)
উম্মে আইমান (রা.)–এর পুত্র। হুনাইনের যুদ্ধে নবীজিকে রক্ষাকারী সাহসী সাহাবিদের একজন ছিলেন। সেই যুদ্ধেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
Comments