কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: টয়লেটে মিলল ৪ মরদেহ, নিহত বেড়ে ১০
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে এ ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকাজে রিসোর্টের টয়লেট থেকে চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিসোর্টের টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে তাঁরা টয়লেটে গিয়ে পানি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) রয়েছেন। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। প্রথমে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করা হয় আরও চারজনের মরদেহ। নিহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবার বিষয়ে নিশ্চিত হতে খোঁজখবর চলছে।
রিসোর্টে ছিলেন ১৬ পর্যটক
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তিনটি কক্ষের অতিথিরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে অবস্থান করছিলেন ১৬ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার সকালে বিভিন্ন প্রয়োজনে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।
সকালে আগুন লাগার পরপরই ভেতরে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরুতে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান, বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
Comments